রাজ্যের আলু চাষিদের আসন্ন বিপদের সম্ভাবনায় আগেভাগেই পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। ঘোষণা করা হল ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। এই নিয়ে ষষ্ঠবার রাজ্যের আলু চাষিদের (potato farmers) পাশে রাজ্যের কৃষক দরদী সরকার। অন্যদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই শ্রম দফতরের তরফে ঘোষণা করা হল, উত্তরবঙ্গের বন্ধ থাকা ১৯টি চা বাগানই (tea estate) খুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র গত দেড় মাসে।

গোটা দেশের কৃষকদের জন্য যখন কেন্দ্রের সরকারের থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) দাবি মেটানো সম্ভব হয় না, তখন বাংলার প্রশাসন কৃষকদের আসন্ন বিপদের কথা অনুমান করে দাবির আগেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ঘোষণা করে। চলতি বছরে আলুর উৎপাদন বেশি। অন্য রাজ্যগুলিতেও আলু দাম কমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষিমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার (Pradip Majumder) জানান, আলুর দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ষষ্ঠবার কেনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। মার্চ মাসে আলু ওঠা শুরু হলে প্রতি কেজি ৯ টাকা ৩০ পয়সা দরে আলু কেনা হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে মন্ত্রী জানান, মূলত প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত। কৃষক প্রতি ৭০ ব্যাগ আলু কেনার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। আপাতত ১২ লক্ষ টন আলু কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুন মাসের পর হিমঘর থেকে ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হবে সেই আলু। কৃষক যাতে অভাবী বিক্রিতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

আরও পড়ুন : ৪৩০ মডেল স্কুল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি উন্নয়ন: সাড়ে ৪ হাজার কোটির নতুন প্রকল্প

অন্যদিকে রাজ্যের পাট শিল্প ও চা শিল্পকে সরকারি সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতেও তৎপর রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে চা শিল্পের শ্রমিকদের জন্য বারবার যেভাবে রাজ্য সরকার কাজ করেছে তার ফলশ্রুতি বন্ধ চা বাগান খোলা। শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (Malay Ghatak) জানান, দেড় মাসে ১৯টি চা বাগান (tea estate) খোলা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একটি-দুটি করে খুলতে খুলতে ১৯টি চা বাগানই খোলা হয়েছে। রাজা টি এস্টেট, বামনডাঙা তান্ডু টি এস্টেট, তিনচুলিয়া, সৈদাবাদ, তুড়তুড়ি চা বাগান এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ৯৫টি ক্রেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের সন্তানদের খাদ্য ও পুষ্টির ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে ১৯টি চা বাগানে প্রায় ১৩ হাজার ৭৪৪ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

–

–

–

–

–


