
” পলভরকে লিয়ে কোই হমে
প্যার কর লে
ঝুটা হি সহি… ”

মহাসমারোহে না হোক, ছলনা হয়েও প্রেম আসুক প্রেমহীন শুষ্ক জীবনে । নইলে কিসের বেঁচে থাকা? হোক না ভান, হোক না মিথ্যে, হোক না মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। তবু আসুক, প্রজাপতির মতো রং ছড়িয়ে আসুক প্রেম।

অপরূপভাবে ভাঙা যেমন গড়ার চেয়েও মূল্যবান কখনো-সখনো , ঠিক তেমনি কিছু কিছু মিথ্যা বিশেষ বিশেষ সময়ে ও পরিস্থিতিতে সত্যের চেয়েও মহার্ঘ্য হয়ে ওঠে। কিছু কিছু মিথ্যা যেন জীবনদায়ী। কোনো কোনো মিথ্যা যেন অনুপম শুশ্রূষা।

প্লেসিবো এফেক্ট বা ছদ্ম চিকিৎসা ( Placebo effect ) তেমনই এক আশ্চর্য চিকিৎসা যা, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর, এই তত্বের ওপর ভর করে এগোতে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করে । এই এফেক্ট একটা মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক অবস্থা, যেখানে কোনো রোগী চিকিৎসকের দেওয়া নিষ্ক্রিয় বা নকল ওষুধ ( যাতে কোনো সক্রিয় ঔষধি উপাদান নেই, যেমন সুগার পিল ইত্যাদি ) গ্রহণ করার পরেও শুধুমাত্র বিশ্বাস বা প্রত্যাশার কারণে সুস্থ বোধ করেন। মূলত রোগীর বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে শরীরকে ভালো বোধ করতে সাহায্য করে এই প্লেসিবো এফেক্ট, যা মানসিক চাপ কমিয়ে প্রাকৃতিক ব্যথা নিরোধক ( painkiller) এন্ডোরফিন নির্গত করতে পারে। যখন একজন রোগী বিশ্বাস করতে থাকেন যে, তিনি একটি কার্যকর চিকিৎসা পাচ্ছেন, তখন তিনি মানসিক চাপ মুক্ত হতে থাকেন এবং তাঁর শরীর ইতিবাচক সাড়া দিতে থাকে।

ব্যথার ওষুধের বদলে সাধারণ ভিটামিন বা সুগার ট্যাবলেট দেওয়া হলেও রোগী মনে করেন যে তিনি ভালো হচ্ছেন এবং তাঁর ব্যথা কমে যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, এটা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে রোগীকে ভালো বোধ করালেও টিউমার, ক্যান্সার এবং কোনো মারাত্মক সংক্রামক রোগ নিরাময় করতে পারে না।ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নতুন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য প্রকৃত ওষুধের পরিবর্তে এই placebo effect ব্যবহার করা হয়। এটাকে ভুয়া চিকিৎসা, ছদ্ম চিকিৎসা, নিষ্ক্রিয় চিকিৎসা ইত্যাদিও বলা হয়ে থাকে। মোট কথা, রোগী যখন মনে করে সে আসল ওষুধ খাচ্ছে, তখন তার মস্তিষ্ক ডোপামিন নিঃসরণ করে, যা অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে ব্যথাও কিছুটা কমিয়ে দেয়। মাথা ব্যথা, পেটে ব্যথা এবং হাঁটু ও কোমর ব্যথায় এটা বেশ কার্যকর, তবে সবসময় নয়।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, ক্লান্তি এবং টেনশন কমানোর ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা বেশ কাজে লাগে। কিন্তু প্রকৃত রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা কাজে লাগে না। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, কার্যকর ওষুধ বা প্রকৃত চিকিৎসা ছাড়াই, শুধুমাত্র সুস্থ হওয়ার বিশ্বাস উৎপাদনের মাধ্যমে একজন রোগীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশ কিছুটা অথবা তুলনামূলক ভালো বা সুস্থ অনুভব করানো বড়ো সহজ কাজ নয়। ছলনা, ছদ্ম বা ভুয়ো চিকিৎসা ইত্যাদি যা কিছুই বলা হোক না কেন, প্লেসিবো এফেক্টের তাৎক্ষণিক প্রভাব অস্বীকার করার কোন জায়গা কিন্তু নেই। রোগীর মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো এই ছদ্ম চিকিৎসার প্রাথমিক শর্ত।

অনেকেই একটা ব্যাপার মানেন যে, ডাক্তারের কাছে এলেই কোনো কোনো রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করতে থাকেন তুলনামূলকভাবে। এর মনস্তাত্ত্বিক দিকটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারের চেম্বারে পৌঁছেই অনেক রোগীর মনে হয় যে, আর চিন্তা নেই, এবার একটু পরেই চিকিৎসা শুরু হবে। এই প্রত্যাশা থেকেই সম্ভবত রোগের প্রভাব কমে গিয়ে মগজে ইতিবাচক সংকেত যেতে শুরু করে, যা সুস্থতার
বোধকে সক্রিয় করে। ডাক্তার যখন অসুস্থ মানুষটিকে আশ্বাস দেন যে তাঁর তেমন কিছু হয়নি, তখন রোগীর মনে সেই আশ্বাস ম্যাজিকের মতো কাজ করে। সেই মুহূর্তে মস্তিষ্ক এন্ডোরফিন ( endorphins) বা ডোপামিনের ( dopamine) মতো শরীরের পক্ষে ইতিবাচক উপাদানগুলো মুক্ত করে ব্যথা কমিয়ে দেয়।

এই সময়ে ব্যথানাশক ওষুধের পরিবর্তে ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া হলেও রোগীর ব্যথা কমার বোধ হতে থাকে। ব্যথা, অনিদ্রা, বিষন্নতা ও মানসিক অস্থিরতা সহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অস্বস্তিতে দারুণ কাজ করে প্লেসিবো এফেক্ট।

এর ফলে প্রকৃত চিকিৎসা শুরু করার জন্য অনেকটা সময় পাওয়া যায়। পরিশেষে এটাই বলতে হয় যে, মন না চাইলে যেমন গান হয় না, শুধু গান কেন, মন না চাইলে কিছুই হয় না, ঠিক তেমনি মন চাইলে সবই সম্ভব। প্লেসিবো এফেক্টের ক্ষেত্রে শরীরের চেয়েও অনেক বেশি ভূমিকা থাকে মনের। ইতিবাচক মনের চেয়ে বড়ো প্রতিষেধক আর কিছু নেই।

আরও পড়ুন – শেষ ম্যাচে হিলির দুরন্ত শতরান, হরমনপ্রীতদের লজ্জাজনক হার
_

