হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও দেশের জাহাজ যাবে না। ঘোষণা করার পর আবার মত বদল ইরানের। চিনকে (China) অনুমতি দিল ইরান। রাশিয়ার থেকে পাওয়া অস্ত্রে যুদ্ধও করছে ইরান। ইরানের উপর ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় এবার বিশ্ব স্পষ্টত দুই ভাগে ভাগ। কিন্তু হরমুজ প্রণালী (Strait of Harmuz) দিয়ে তেল আমদানি করায় দ্বিতীয় দেশ ভারতের (India) কোনও ছাড় মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তেল (crude oil) আমদানি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানাতে পারল না ভারত। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করল বিরোধী দলগুলি।

বুধবারই ইরান স্পষ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালীতে চিনের (China) জাহাজকে ছাড় দিচ্ছে ইরানের সেনাবাহিনী। চিন সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করার পরই এই বার্তা ইরানের। অথচ ভারতকে নিয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা পাঠিয়েছে ভারত। শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় দৌত্য চালানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে ভারতের সমস্যার সমাধান কী আদৌ রয়েছে? হরমুজ প্রণালী (Strait of Harmuz) দিয়ে তেল আমদানি করা দেশগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ভারত। মোট তেল আমদানির ১৪ শতাংশ আমদানি করে ভারত (India)। এখন তা স্পষ্টত বন্ধ। ভারত আশ্বাস দিচ্ছে তারা খুবই কম তেল ওই প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। তাই ভারতের কোনও অসুবিধা হবে না। কিন্তু অসুবিধা যে হচ্ছে, তা টাকার দামের ক্রমাগত পতনেই স্পষ্ট।

ইতিমধ্যেই ভারতের অন্তত ৩৭টি জাহাজ আটকে রয়েছে হরমুজ প্রণালীতে। সেখানে জীবন সংশয়ে কাটছে অন্তত ১১০০ নাবিকের (sailors)। সেই আটকে পড়া জাহাজ নিয়েও কোনও সদুত্তর দিতে পারছে না নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সরকার। সেই সঙ্গে ভারতের তেল আমদানি কীভাবে আবার হবে এই পথে, তা নিয়েও নিরুত্তর ভারত।

আরও পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, রেকর্ড পতন টাকার দামে

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোথায় গেল ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপ। যখন ইরানে গণহত্যা হয়েছে, তখন ইরানকে নিয়ে কোনও অবস্থান নেয়নি ভারত। যখন আন্তর্জাতিক মদতে ইরানের শীর্ষনেতাদের গণহত্যা হয়েছে, তখনও ভারতের বিদেশনীতিতে কোনও স্বচ্ছতা নেই। এখন চিনকে ছাড় দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক জলপথ বা সরবরাহ পথ কোনও দাতব্য যে নয়, তা বিদেশনীতিতেই বোঝা যায়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপ কতটা দুর্বল তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল।

–

–

–

–


