যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে রাজ্য সরকার তাদের হাতে থাকা পুরনো বাস সংস্কারের (West Bengal Transport) উদ্যোগ নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ কর্পোরেশনের বহু পুরনো বাসকে নতুন করে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্য সরকারের সংস্থা দ্য শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেড (Shalimar Works Limited) হাওড়ায় তাদের কর্মশালায় বাসগুলির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য আগ্রহী সংস্থাগুলির কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করেছে। পরিবহণ দফতরের একাধিক আধিকারিকের মতে, অনেক বাস এখনও যান্ত্রিকভাবে সচল থাকলেও বডি ও অভ্যন্তরীণ অংশে বড় মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে। সেই বাসগুলিকেই নতুন করে সংস্কার করে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আধিকারিকদের মতে, এই সংস্কার কর্মসূচির ফলে এক দিকে যেমন বাসগুলির পরিষেবা জীবন আরও কয়েক বছর বাড়ানো যাবে, তেমনই যাত্রীদের জন্যও পরিষেবার মান উন্নত হবে। অনেক বাস বর্তমানে চলাচল করছে ঠিকই, কিন্তু বডি, মেঝে এবং ভিতরের বিভিন্ন অংশে বড় মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলি দূর করা হবে। আরও পড়ুন: সাংবিধানিক কাঠামো নষ্ট করতে চাইছে মোদি সরকার ও তার এজেন্ট: ধর্নামঞ্চ থেকে তোপ কল্যাণের

পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসের ক্ষতিগ্রস্ত বডি, মেঝে ও কাঠামোগত অংশ মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দরজা ও জানলার মেরামত করা হবে এবং অভ্যন্তরীণ ফিটিংস প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে দেওয়া হবে। বাসের ভিতরের বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার এবং আলো-ব্যবস্থাও নতুন করে ঠিক করা হবে। সমস্ত কাঠামোগত কাজ শেষ হলে বাসগুলিকে নতুন করে ভিতরে ও বাইরে রং করে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দশ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের বাস সংস্কারে শ্রম ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা। দশ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের বাসের ক্ষেত্রে সেই খরচ প্রায় ৮ লক্ষ ১২ হাজার টাকা হতে পারে। প্রতিটি বাস সংস্কারে প্রায় চল্লিশ দিন সময় লাগতে পারে বলে আধিকারিকদের অনুমান। সংস্কারের কাজ শেষ হলে বাসগুলিকে পরীক্ষা করে তবেই আবার রাস্তায় নামানো হবে। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, নতুন বাস কেনার তুলনায় পরিষেবাযোগ্য পুরনো বাস সংস্কার করলে অনেক কম খরচে বহরে বাসের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে এবং যাত্রীদের চাহিদা মেটাতেও সুবিধা হবে।

–

–

–

–

–

–

