তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন উত্তর প্রদেশের তৃণমূল নেতা ললিতেশ ত্রিপাঠী (Lalitesh Tripathi)। তিনি বলেন, বাংলায় (West Bengal ) এসআইআর কার্যকর করার ঘোষণা হওয়ার দিন থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এসআইআর করা যেতে পারে, তবে তার জন্য পর্যাপ্ত সময় দরকার। কারণ রাজ্যে ভোটের (Vote) আর মাত্র কিছুদিন বাকি, এত অল্প সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কথা সারা দেশের মানুষই জানেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) উল্লেখ করে ললিত জানান, কোনও ছোটখাটো নেতার কর্মসূচি হলেও রাস্তার দু’দিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী (Chief minister) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআরের প্রতিবাদে টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে ধর্নায় বসে আছেন, আর সেই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সামিল হয়েছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। ত্রিপাঠীর কথায়, এটাই বাংলার মানুষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর গভীর সম্পর্ক ও ভালবাসার প্রমাণ।

ত্রিপাঠীর (Lalitesh Tripathi) অভিযোগ, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এমনকী সেই ভয় ও মানসিক চাপে কয়েকজন আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই সময়ও মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর কথায়, বিজেপির কোনও নেতাই এই ঘটনাগুলির জন্য সামান্য দুঃখপ্রকাশও করেননি।

এদিন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রস্তুতই ছিল না। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) কটাক্ষ করে ‘জ্ঞানলেস’ বলেও মন্তব্য করেন ত্রিপাঠী। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ত্রিপাঠী স্পষ্ট করে বলেন, এসআইআর হওয়া উচিত—এ কথা অনেকেই বলছেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় যাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেটাই নিশ্চিত করতেই এই ধর্না আন্দোলন। ত্রিপাঠীর মতে, রাজ্যের এই বড় সংকটের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন নেতার নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

–

–

–

–

–

