ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) ইস্যুতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে এবং তাদের আইনি লড়াইয়ের সুযোগ কবে মিলবে। এদিন নরেন্দ্র মোদিরা কত ভাই তাই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

দেবাংশুর অভিযোগ, কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র নামে পরিবারে সদস্য সংখ্যা বা সন্তান সংখ্যার মতো বিষয়কে ভিত্তি করে নোটিশ পাঠাচ্ছে। তাঁর কথায়, “পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকলেই নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হচ্ছে।আমি জানতে চাই দেশের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরা কয় ভাই?” তিনি আরও বলেন, দেশের মধ্যে জন্মহার সবচেয়ে বেশি বিহারে। সেখানে যখন এসআইআর হল তাহলে কেন সেখানে একইভাবে নোটিশ দেওয়া হল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাংবাদিক সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন এড়ানোর জন্য কৌশল করে এক সঙ্গে অনেক প্রশ্ন নিচ্ছে, এ কেমন সাংবাদিক সম্মেলন?

এদিন তিনি দাবি করেন, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বিচারাধীন। এর মধ্যে ১০ লক্ষের নাম বিচার করা হয়ে গিয়েছে। তাহলে কেন নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে তালিকা প্রকাশ করছে না। “যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তারা কবে আইনি লড়াই শুরু করবে?”—এই প্রশ্নও তোলেন তৃণমূল নেতা। বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও কটাক্ষ করেন দেবাংশু। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর সাংবাদিক বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসঙ্গে বহু প্রশ্ন নেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি তাদের আইটি টিমকে বাংলায় বিশেষভাবে সক্রিয় করেছে। তাঁর দাবি, “পুরো টিম নিয়ে বাংলায় ফোকাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” আরও পড়ুন: মুসলিম মহিলাদের উত্তরাধিকার মামলা: ‘সমাধান ইউনিফর্ম সিভিল কোড’, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও এদিন সরব হন দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব রাজস্ব ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যানই রাজ্যের উন্নয়নের প্রমাণ। এদিন তিনি বলেন, যদি দুর্গাপুজোর আগে রেডিওতে ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে’ শুনতে চান, যদি সাদা দাড়িয়ালা লোকের ‘মন কি বাত’ না শুনতে চান তাহলে দিদির সঙ্গে থাকুন। তাহলে বিজেপি এসে মহালয়া বন্ধ করে দেবে। বাংলার সংস্কৃতি ও উন্নয়ন রক্ষার লড়াইয়ে মানুষের উচিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশে থাকা।”

–

–

–

–

–

–

