পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের একটা বড় অংশের তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ যে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, তা স্বীকার করছে না কেন্দ্রের মোদি (Narendra Modi) সরকার। অথচ তার প্রভাবে এবার দেশের একাধিক শহরে বন্ধ হল হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্প (hotel industry)। এমনকি পুনে শহরে বন্ধ হল শ্মশানের (crematorium) পরিষেবাও। জরুরি ভিত্তিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের (commercial gas) নিয়ন্ত্রণে তিন সদস্যের কমিটি গঠন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের।

দেশে তেলের দাম বাড়বে না প্রতিশ্রুতি দিলেও রান্নার গ্যাস নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি এখনও পর্যন্ত মোদি সরকার দিতে পারেনি। যার ফল ভুগছেন সাধারণ মানুষ। হেঁসেলে কমেছে রান্নার গ্যাসের (cooking gas) সরবরাহ। বেড়েছে দাম। এই পরিস্থিতিতে নতুন সংকটের মুখে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ। এর ফলে বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলি জারি করল হোটেল বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি।

বেঙ্গালুরুর রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ সোমবার থেকেই বন্ধ হয়েছে। ফলে চরম সংকটে পড়তে চলেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প। বেঙ্গালুরু শহরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাজের সন্ধানে যাওয়া আইটি কর্মীরা ব্যাপকভাবে এইসব হোটেলগুলিতে নির্ভর করে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নির্দেশিকার জেরে তাঁরা যে সংকটের মুখে পড়েছেন তাতে মঙ্গলবার থেকে বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) সমস্ত হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই পরিস্থিতি চেন্নাই শহরেও। হোটেল মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে তাঁদের বাণিজ্যিক গ্যাসের (commercial gas) সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে। তাঁদের স্টকও ফুরিয়ে গেছে। ফলে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন হোটেল রেস্তোরাঁ (hotel industry) বন্ধ করে দিতে।

আরও পড়ুন : বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, শনিবার থেকেই মধ্যবিত্তের হেঁশেলে কোপ

শুধুমাত্র হোটেল শিল্পেই নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসে চলা শ্মশানেও এবার কোপ এলপিজি সরবরাহ কমার কারণে। মহারাষ্ট্রে পুনে পুরোনিগম কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসে (natural gas) দাহ কাজ। ফলে পুনের ২৭ টি শ্মশানে ব্যাহত শব দাহ প্রক্রিয়া।

এই পরিস্থিতিতে অবশেষে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মন্ত্রক ঘোষণা করল যে ভারতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এমনকি সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহও (fuel supply) যে ব্যাহত, তাও স্বীকার করা হয়েছে। ফলে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হোটেল রেস্তোরাঁয় গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

–

–

–

