ভারতীয় ক্রিকেট দল (Indian cricket team) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 cricket world cup) জেতার পর থেকে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। কাউকে দেখা গেছে জয়ের পর বান্ধবীকে নিয়ে সেলিব্রেশনে মেতে উঠতে, তো কেউ আবার গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবারকে। আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামে উজ্জ্বল দুই জ্যোতিষ্ক সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) ও জসপ্রীত বুমরাকে (Jaspreet Bumrah) নিয়ে আলোচনা হলেও জয়ের অন্যতম কারিগর উইকেট কিপার- ব্যাটার ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) ঠিক কতটা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে দেশের জন্য বাইশ গজে এবং লড়াই করেছেন সে খবর অনেকেরই অজানা। ফাইনালের ঠিক একদিন আগে তাঁর পরিবারের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় খুড়তুতো দিদি জামাইবাবুকে হারান তরুণ ক্রিকেটার। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হলেও খেলার মাঠে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়তে দেননি তিনি।


খারাপ জীবন যাপনের কারণে একটা দীর্ঘ সময় ভারতীয় ক্রিকেটের জার্সি পরা থেকে বিরত থাকতে হয়েছিল ঈশানকে। ট্যালেন্ট থাকা সত্ত্বেও সুযোগ পাননি। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে অনেক পরিণত করেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে ওপেনিং আবার কখনও তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে শুধু ভরসা যুগিয়েছেন তাই নয় বিপক্ষকে নিমেষে ছত্রভঙ্গ করেছেন। নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান- ইংল্যান্ড-সাউথ আফ্রিকার বোলাররা রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন এই ‘ছোট পটাকা’কে। নান্দনিক ক্রিকেট শট উপহার দিয়েছেন। উইকেট কিপারের দস্তানা ছাড়াই অবিশ্বাস্য ক্যাচ লুফেছেন ফাইনালে। সেই ঈশান বিশ্বকাপ জয়ের পরই সরাসরি তাঁর দিদির বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পরিজনদের সাহস জোগান। একদিকে দেশের প্রতি কর্তব্য পালন অন্যদিকে পারিবারিক দায়িত্ববোধ দেখিয়ে সকলের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তাঁর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আবেগপ্রবণ নেটপাড়া। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে ঈশান ৯ ম্যাচে ১৯৩.২৯ স্ট্রাইক রেটে ৩১৭ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি হাফ-সেঞ্চুরিও।

–

–

–

–

–

–

–

–


