দীর্ঘ ১১ মাসের আইনি লড়াই ও টানাপড়েন শেষে এসএলএসটি নিয়োগ সংক্রান্ত আদালত অবমাননা মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বৃহত্তর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শুনানির অন্তিম দিনেও আবেদনকারী আইনজীবীদের রাজনৈতিক আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন শুনানির শুরু থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, বাম, বিজেপি ও কংগ্রেসপন্থী আইনজীবীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুণাল ঘোষকে এই মামলায় জড়িয়েছেন। আদালত অবমাননার অভিযোগে সরব হওয়া হাই কোর্টের বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল, “আপনারা কি কখনও বার অ্যাসোসিয়েশন বা বার লাইব্রেরিকে মানুষের স্বার্থে মামলা লড়তে দেখেছেন? কিন্তু এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কুণাল ঘোষকে হেনস্থা করার জন্য এঁরা অতি-উৎসাহী।”

আইনি পয়েন্টে দীর্ঘ সওয়াল করে সাংসদ-আইনজীবী জানান, যখন কথিত অবমাননার ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন তাঁর মক্কেল একটি নিউজ স্টুডিওতে বসেছিলেন, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, বিচারপতিদের মন্তব্য কখনও কখনও সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাও বিচার্য। আবেদনকারী আইনজীবী পার্থ সারথী সেনগুপ্তের পেশ করা নজিরগুলির বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, ওই জাজমেন্টগুলি এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাঁর কথায়, “মিস্টার সেনগুপ্তের মূল লক্ষ্যই হল কুণাল ঘোষকে জেলে পাঠানো, তিনি কিছু করে থাকুন বা না থাকুন।”

উল্লেখ্য, এই মামলায় কুণাল ঘোষের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী ও রাহুল কুমার সিং। মামলার শুনানি শেষ হলেও আদালত জানিয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে আবেদনকারী পক্ষকে তাঁদের সওয়ালের স্বপক্ষে সংক্ষিপ্ত নোট বা ‘শর্ট নোট’ জমা দিতে হবে। এরপরই আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে।

আরও পড়ুন- কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী: গঠিত হলো পশ্চিমবঙ্গ ব্যবসায়ী কল্যাণ বোর্ড

_

_

_

_

_

_
_


