মোদি সরকারের ভুল নীতির ফলে দেশজুড়ে গ্যাস সঙ্কটের তীব্রতা বাড়ছে। ৪ সঙ্কটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শুক্রবার, তৃণমূল (TMC) ভবন থেকে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে মোদি সরকারকে তুলোধনা করলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। শনিবার, রাজ্যে সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মঞ্চে রয়েছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদল। সেটাতে থিমপুজোর প্যান্ডেল বলে তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল।

এদিন, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, গ্যাস (Gas) সঙ্কটের ৪ প্রভাব পড়েছে দেশে। ১) রান্নায় হয়রানি, ২) কর্মসংস্থানে হাত পড়ছে, ৩) আর্থিক বোঝা বাড়ছে, ৪) সামাজিক চাপ। শুধু গ্যাস সিলিন্ডার অমিল, তাই নয় পাইপ লাইনের গ্যাস সাপ্লাইও মাঝে মাঝেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাখ্যা করে কুণাল বলেন, মোদি সরকারের ব্যর্থতার জেরে রান্নার গ্যাসে সঙ্কট। গ্যাস বুক করতে নাজেহাল হওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের কালোবাজারি মাথাচাড়া দিয়েছে। কর্মসংস্থানেও হাত পড়েছে। গ্যাসের সঙ্কটের জেরে বন্ধ হচ্ছে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ। ফলে গিগকর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ কর্মীরাও বেকার। সিএনজির (CNG) দাম বাড়ায় অটোর ভাড়া বাড়ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ যাঁরা অটোয় যাতায়াত করেন। তাঁদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সামাজিক প্রভাবও পড়েছে। দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ভোগ রান্নায় কাটছাঁট হচ্ছে। কোথাও কোথাও সাধারণ ভক্তদের জন্য ভোগ বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে। মন্দিরগুলির ভোগের উপর ভিক্ষুজীবী থেকে অনেক গরিব মানুষ নির্ভর করে থাকেন। এই সমস্যায় তাঁদের পেটে টান পড়ছে।

শনিবার রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আক্রণ করেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ফের ভোটের আগে রাজ্যে এসে একরাশ মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেবেন নরেন্দ্র মোদি। অথচ বাংলায় ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে আবাস, রাস্তা-সহ বিভিন্ন খাতে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। তার পরেও কোন মুখে ভোট চাইবেন প্রধানমন্ত্রী! মানুষের হেনস্থার জন্য তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। শকুনের মতো রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আসছেন মোদি- তীব্র আক্রমণ কুণালের (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায় বিজেপির ভুলনীতির জন্য আজ হয়রান হতে হচ্ছে মানুষকে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মোদির সভায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে মঞ্চ করা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, এটা কি থিম পুজোর প্যান্ডেল নাকি যে মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে! বাংলার মন্দিরগুলির উন্নয়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দক্ষিণেশ্বরের স্টেশনের টিকিট কাউন্টারটি তিনি দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের আদলে করে দিয়েছেন। কালীঘাট থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন তীর্থস্থানকে ঢেলে সাজিয়েছেন মমতা। যদি উন্নয়ন করতে হয় তাহলে মোদি সরকার সেটা করুক। মঞ্চে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কাট আউট রাখা শুধু বাঙালি আবেগকে সুড়সুড়ি দেওয়ার কৌশল বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

–

–

–

–

–

–


