পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে ভারত জুড়ে জ্বালানি সংকট। সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলায়। তমলুকের বর্গভীমা মন্দির থেকে বাগবাজারে মায়ের বাড়ি (Mayer Bari, Bagbazar), দিঘার জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Temple) থেকে কলকাতার ইসকন – একের পর এক দেবস্থানে ভক্তদের ভোগ বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সেই একই পথে হাঁটল নৈহাটির বিখ্যাত বড়মা মন্দির (Boro Maa Temple) । আগামী সোমবার অর্থাৎ ১৬ মার্চ থেকে মন্দিরে নিঃশুল্ক অন্নভোগ পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা করলো কর্তৃপক্ষ। যদিও ভক্তদের কথা মাথায় রেখে বিকল্প পদ্ধতি ভাবতে শুরু করেছে আদ্যাপীঠ মন্দির (Adyapeath Mandir) কর্তৃপক্ষ।

শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতিধন্য দক্ষিণেশ্বরের অনতিদূরেই রয়েছে আদ্যাপীঠ মায়ের মন্দির। প্রত্যেকদিন কুপন কেটে বহু ভক্ত সেখানে বসে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের অপদার্থতায় যেভাবে এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে তাতে একের পর এক উপাসনালয় থেকে শুরু করে দেবস্থানে ভক্তদের প্রসাদ বিতরণে কাটছাঁট করা হচ্ছে। আদ্যাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে ভাবতে চাইছে।এই প্রতিষ্ঠানে আবাসিক প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা মহিলা ও সাধু-সন্ন্যাসীর জন্য প্রতিদিন দু’বেলা রান্না করতে হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে ভোগ তৈরির পরিমাণ কমানো সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে গ্যাসের পরিবর্তে ডিজেলের ইঞ্জিন দিয়ে রান্না করা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে এখনই আদ্যাপীঠ মন্দিরে ভোগ বিতরণ ও নরনারায়ন সেবা বন্ধ হচ্ছে না।

নৈহাটির বড়মা মন্দিরে সূচি অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন অর্থাৎ সোম বুধ ও শুক্রবার গড়ে ৭০০ জন প্রসাদ পান। তার উপর শনি ও মঙ্গলবারে এই সংখ্যাটা ছাড়িয়ে যায় হাজারের বেশি। কিন্তু এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে কবে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাবে তা নিয়ে কারোর কাছে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে বাধ্য হই ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বড়মা মন্দির কর্তৃপক্ষকে। বড়কালী পূজা সমিতি ট্রাস্টের সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য (Tapas Bhattacharya) জানিয়েছেন, “গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এত বড় আকারে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও আগামী সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) থেকে পরিষেবা আপাতত স্থগিত রাখতে হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই অন্নভোগ পরিষেবা ফের চালু করা হবে।”

–

–

–

–

–

–

–
–


