বিজেপির ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বাসে করে ইট, পাথর নিয়ে যাচ্ছে বিজেপির কর্মীরা। বিজেপির স্বরূপ প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। ব্রিগেডের প্রধানমন্ত্রীর সভা ভরানোর জন্য কীভাবে বাইরের রাজ্য থেকে গুণ্ডামি করা হয়েছে কলকাতা শহরের গিরিশ পার্কে, মোদির সভার শেষে সেই ঘটনা তুলে ধরা হল তৃণমূলের তরফে। প্রায় ২৫০ জনের ভিড় মোদির সভার আগে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন শশী পাঁজা। স্বাধীন ভারতবর্ষে কোনও রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে এভাবে আক্রমণের ঘটনা নজিরবিহীন, দাবি রাজ্যের আরেক মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। ব্রিগেডের সভা থেকে যে হিসাব নেওয়ার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার স্বরূপ কী এটাই? তাঁর হিসাব নিতে গেলে তিনি কোথায় লুকাবেন, প্রশ্ন সাংসদ সায়নী ঘোষের।

ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, বাংলার মানুষ হিসাব নেবেন। নরেন্দ্র মোদির হুমকির সেই নিদর্শন তুলে ধরে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী আসায় বিজেপি কর্মীরা এতটাই উজ্জীবিত হয়েছেন যে যখন তাঁরা জানতে পারেন এটা মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি তখন সেখানে বোতলবাজি, পাথরবাজি হল। আমার মনে পড়ছে না স্বাধীনতার পরে গুজরাট ছাড়া, যেখানে একজন সাংসদ খুন হয়েছিলেন, কোনও অঙ্গরাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।

মোদির সেই দাবি তুলে ধরে মন্ত্রী শশী পাঁজাও প্রশ্ন তোলেন, আপনি না কি হিসাব নেবেন বলছেন। আপনার কর্মীরা বাসে করে ইট, পাথর, বোতল নিয়ে যাচ্ছে। একজন মন্ত্রীর উপর আক্রমণ হচ্ছে। একজন মহিলাকে মারছে। এত বড় পাথর দিয়ে আমায় মারার চেষ্টা করল। আমি আহত। রাজ্যের একজন মন্ত্রী আহত। আমার সহকর্মীরা আহত। এটাই বিজেপির গণতন্ত্রের সংজ্ঞা? সেখানেই শশী পাঁজা আরও প্রশ্ন তোলেন, তিনি কী শুধুই বিজেপির প্রধানমন্ত্রী? তিনি কী দেশের প্রধানমন্ত্রী নয়?

গোটা ঘটনার বর্ণনা ফের একবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে জানান শশী পাঁজা। সেই সঙ্গে চারজন তৃণমূল কর্মীকে নিয়ে আসেন যাঁরা বিজেপির হামলার মুখে পড়ে গুরুতর আহত হন। যেভাবে রাজ্যের মহিলা মন্ত্রী, তৃণমূলের ফ্লেক্স লাগানো কর্মী ও কলকাতা পুলিশ এমনকি মহিলা পুলিশ কর্মীদের উপর হামলা চালায় তাতে বিজেপি কর্মীদের ‘কাপুরুষ’ দাবি করেন শশী পাঁজা। শশী পাঁজা দাবি করেন, এটা পরিকল্পিত হামলা। প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলছেন সব হিসাব নিয়ে নেবেন। আজ সেই হিসাবের নিদর্শন। বাংলায় সরকার গঠন এখনও দূরের কথা। খুন করে বাংলা দখল করবেন তাঁরা?

তারপরেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যে সংযত আচরণ তৃণমূল কর্মীরা তুলে ধরেছেন, তাও স্পষ্ট করেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি জানান, দিদি কথা বলেছেন। আমরা নিজেদের সংযত রেখেছি। তার মানে এটা নয় যে আমরা দুর্বল। আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করি। আমরা গুণ্ডা নই, খুনি নই। সংযত মানেই আমরা অসহায় এমনটা নয়।

আরও পড়ুন : এরা গুণ্ডা নয়, খুনি! হামলার পর তোপ আহত মন্ত্রীর, প্রমাণ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করবেন শশী

একই কথার রেশ ধরে সাংসদ সায়নী ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, এটা শুধুই ট্রেলার। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের আগে এই ছবি। যদি বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করে তবে হুলিগানিজম কেমন চেহারা নেবে।
প্রধানমন্ত্রী শুধু পা রেখেছেন বাংলায়। আর পা রাখতেই একজন মহিলা মন্ত্রীর উপর আক্রমণ হচ্ছে। এটা বাংলার মানুষ আজ বুঝে গেল। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে উপদ্রব বয়ে আনা হবে।



