ব্রিগেডে সভা করে বড় কিছু ঘোষণা করবেন। অন্তত নির্বাচনের আগে এমনটা গোটা বাংলার মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। অথচ দেশের প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) যে পর্বতের মুশিক প্রসব করলেন, তাতে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে বাংলার বকেয়া দেওয়া নিয়ে একটিও কথা বললেন না নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। অন্যদিকে ১৮ হাজার কোটির এমন কিছু প্রকল্পের আত্মপ্রকাশ ঘটালেন যাতে যাতায়াত ছাড়া আর কোনও প্রাপ্তিই নেই বাংলার। গোটা দেশকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া নরেন্দ্র মোদি যখন ১২ বছরে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি, সেখানে বাংলায় ক্ষমতায় এসে কীভাবে কর্মসংস্থান করবেন, সেই প্রশ্নও তোলা হল তৃণমূলের তরফ থেকে।

শনিবার নির্বাচন ঘোষণার আগে তাৎপর্যপূর্ণ ব্রিগেডের সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগেই সরকারি মঞ্চ থেকে ট্রেন রুট থেকে জাহাজ চলাচল ও বন্দর সম্পর্কিত প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। কার্যত সিঙ্গুরে সভার আগে যেভাবে মোদির সভার প্রত্যাশার বেলুন চুপসে গিয়েছিল, ব্রিগেডেও তার ব্যতিক্রম হল না। তা সত্ত্বেও ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, বাংলার জন্য ১৮ হাজার কোটির প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর (foundation stone laying) স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন। যার ফলে বাংলার প্রবল গতিতে উন্নয়ন হবে।

সেখানেই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh) প্রশ্ন তোলেন, মোদি বলছেন আমাদের উন্নয়ন না কি কেউ আটকাতে পারবে না। বাংলার হকের ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া (Bengal dues) রয়েছে। জলজীবন মিশন, আবাস যোজনার হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। একশো দিনের কাজের টাকা আপনারা দেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে সর্বশিক্ষা মিশনের, মিড-ডে মিলের টাকা আটকে রেখেছেন। ২ লক্ষ কোটি টাকার কাছে ১৮ হাজার কোটি টাকার ললিপপ ধরিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো বাংলার মানুষ ভালো বুঝে গিয়েছেন।

ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে বাংলার বেকারত্ব (unemployment) ও পরিযায়ী শ্রমিকের (migrant labour) ইস্যুতে বাংলার সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই সায়নী ঘোষ তথ্য তুলে ধরেন, বেকারত্বের হার সবথেকে বেশি উত্তরাখণ্ডে, ৮.৯ শতাংশ। অন্ধ্রপ্রদেশ ৮.২ শতাংশ। কেরালম ৮ শতাংশ। রাজস্থানের গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্ব ৭.৪ শতাংশ, শহরে ১৩.৭ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ৩.৭ শতাংশ। মধ্যপ্রদেশে সাড়ে সাত হাজার কনস্টেবল পদের জন্য ৯ লক্ষ ৮৬ হাজার আবেদন পড়ছে।

পাশাপাশি বাংলার নারী নিরাপত্তা নিয়ে যেভাবে বঙ্গ বিজেপির আইটি সেল নানা তথ্যচিত্র তৈরি করে বাংলায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে, একই প্রতিফলন নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডের বক্তৃতায়। আগেও তৃণমূলের তরফ থেকে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশের নারী নির্যাতনের উদাহরণ বারবার তুলে ধরা হয়েছে। সেখানেই নতুন করে তৃণমূলের তরফে সায়নী ঘোষ তথ্য পেশ করেন, মোদি সরকারের ১০ বছরে মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাত্রে মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য পিঙ্ক পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন। অথচ বাংলার অপরাজিতা মহিলা বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পড়ে রয়েছে দেড় বছর ধরে। অপরাজিতা বিল উনি পাশ করেন না, কারণ উনি ভারতের রাষ্ট্রপতি নন। বিজেপির রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন : দিলীপকে কোন কথা বলতেই হেসে উঠলেন বিজেপি নেতারা

বাংলায় এসে বাংলার দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিযোগ তুলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। নতুন করে সেই সব মনে করিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা করেন তিনি, কার্যত তাতে জল ঢেলে দিল তৃণমূল। সায়নী ঘোষ তথ্য পেশ করে দাবি করেন, নিজেরা দুর্নীতির পাহাড়ে বসে রয়েছেন। সর্বোচ্চ স্ক্যাম ইলেক্টোরাল বন্ড (Electoral Bond) ৮,৪০০ কোটি টাকা। স্কিল ইন্ডিয়া (Skill India) নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। ১৪ হাজার কোটি টাকার উপর দুর্নীতি। জল জীবন মিশন, ১৬ হাজার ৮০০ কোটি অতিরিক্ত খরচ দেখিয়েছেন। ৭ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

–

–

–

