দেশের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা। বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ। লাদাখকে অশান্ত করার চেষ্টা। এরকম হাজারো মামলা তাঁর বিরুদ্ধে বসানোর চেষ্টা করেছিল অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সোনম ওয়াংচকে গ্রেফতার করার সময়। শেষে সেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিয়ে জেলমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ ততদিনে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সোনমের (Sonam Wangchuk) গ্রেফতারি নিয়ে। যে স্বৈরাচারী পদ্ধতিতে লাদাখের দাবি তুলে ধরে আন্দোলনে নামা সোনম ওয়াংচুকে গ্রেফতার করেছিল অমিত শাহর (Amit Shah) পুলিশ, তাতে তাঁকে যে বিচারের আলোয় আসতে বাধা দেওয়া হবে, তা ছিল বলাই বাহুল্য। জেল থেকে বেরিয়ে মঙ্গলবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠক করে সেই কাহিনী বর্ণনা করলেন সোনম ওয়াংচু।

লাদাখকে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা দেওয়া ও ষষ্ঠ তফশিলির অন্তর্ভুক্ত করে প্রাকৃতিক সম্পদ, বাসিন্দাদের জীবন জীবিকা রক্ষা করার দাবি জানিয়েছিলেন পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচু। পরবর্তীকালে লেহ অ্যাপেক্স বডিও স্থানীয় যুব সম্প্রদায়কে নিয়ে সেই একই দাবিতে এগিয়ে আসে। দাবি জোরালো হতেই দমন নীতি নেয় দিল্লির বিজেপি সরকার। শান্তিপূর্ণ অনশন আন্দোলন থেকে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সোনম ওয়াংচুকে। ২৬ সেপ্টেম্বর যখন তাঁকে গ্রেফতার করা হয় সেদিনের কথা বর্ণনা করে সোনম (Sonam Wangchuk) দাবি করেন, আমার ঘরে থেকে কার্যত আমাকে বান্ডিল করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আর ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় জেলে। আমাকে আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একটি ফোন পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। আমার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেওয়া হয়নি মাত্র একদিন নয়, সাতদিন ধরে।

শুধু সোনমই নন। এই স্বৈরাচারী চাপ দেওয়া হয়েছিল তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো-কেও (Gitanjali J Angmo)। সোনম জানান, কোনওভাবে সেই দিনগুলিতে নজরদারির বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি কয়েকদিন ধরে। ক্যাম্পাসের বাইরে বিরাট নিরাপত্তা মোতায়েনের অজুহাতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। তাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তারই মধ্যে কোনওমতে তিনি নজরদারি (follow) এড়িয়ে দিল্লি পৌঁছাতে পেরেছিলেন বলেই আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে পেরেছিলেন।

তবে জেলের বাইরে গীতাঞ্জলিকেও যে কম লড়াই করতে হয়নি, এদিন সোনমের কথায় তা স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই আতঙ্কের দিনগুলির বর্ণনা করে সোনম জানান, সেই সময়ে প্রায় দুই তিন সপ্তাহ ধরে দেশের রাজধানী দিল্লির রাস্তায় চরম গোপণীয়তা বজায় রাখতে হয়েছে গীতাঞ্জলিকে (Gitanjali J Angmo)। প্রতিটি রাস্তায় কোনও না কোনও গাড়ি বা বাইকে তাঁর গতিবিধি নজর (follow) রাখা হত।

আরও পড়ুন : ১৭০ দিন পরে ঘরে ফিরলেন সোনম, আবেগঘন পোস্ট স্ত্রী গীতাঞ্জলির

সুপ্রিম কোর্টে যে শেষ পর্যন্ত তিনি জয় পাবেন সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন। তবে এবার শুধুমাত্র তাঁর জয় হয়নি। সোনমের দাবি, তিনটি জয় হয়েছে। তাঁর জেলমুক্তি তাঁর নিজের জয়। এবার আবার তিনি লাদাখ ও হিমালয়ের দাবি নিয়ে সরব হতে পারবেন। তাঁদের দাবি নিয়ে গোটা বিশ্বে তাঁদের ভাবমূর্তি নতুনভাবে তৈরি হবে। তাঁই এটি দ্বিতীয় জয়। আবার কেন্দ্রের যে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লাদাখনিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন তাঁরা, সেই কেন্দ্রের সরকার এবার নিজে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানেও তাঁদের তৃতীয় জয়। সেই সঙ্গে সোনম প্রত্যাশা করেন, পরবর্তী শুনানির দিন জেলমুক্তির পাশাপাশি যে প্রক্রিয়ায় এই গ্রেফতারি হয়েছিল, সেই সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ শোনায় এবং ভবিষ্যতের আধিকারিকদের সেই সম্পর্কে সতর্ক করে, তবে সেটাও তাঁর জয় হবে।

–

–

–

–

