Saturday, April 25, 2026

১৭০ দিন পরে ঘরে ফিরলেন সোনম, আবেগঘন পোস্ট স্ত্রী গীতাঞ্জলির

Date:

Share post:

শেষ পর্যন্ত লাদাখের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) জেলমুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে অমিত শাহর দফতর। প্রমাণিত হয়েছে স্বৈরাচারী মোদি সরকার কীভাবে দাবি আদায় করা যে কোনও ভারতীয়র গলা টিপে মারতে দ্বিধা করে না। বিজেপির বিরোধিতা করলে কীভাবে মাসের পর মাস জেল খাটতে হয়, সোনমকে দিয়েই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল মোদি-শাহ। যদিও সোনম ও স্ত্রী গীতাঞ্জলির অদম্য লড়াইয়ের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ষড়যন্ত্র। ১৭০ দিন পরে জেলমুক্ত হয়ে শনিবার পরিবারের কাছে ফিরেছেন সোনম ওয়াংচুক। এদিন সোনমের মুক্তির পর এক্স হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন পোস্ট করেছেন গীতাঞ্জলী (Geetanjali Angmo)।


তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর স্বামীর সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। জেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেখা করার চাপ থাকতো, এখন সেই চাপ মুক্ত হয়ে স্বস্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরিবারের চিকিৎসকের পরামর্শে সোনম ওয়াংচুককে একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন: অচেনা মানুষের শেষ যাত্রার সঙ্গী! বেওয়ারিশ লাশ সৎকারে ডাক পড়ে পূজার

ভোটের আগে লাদাখকে ষষ্ঠ তফশিলে (Sixth schedule) অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর সেই কথা রাখেনি কেন্দ্রীয় সরকার। কোনও এক ‘অজ্ঞাত’ কারণে লাদাখকে ষষ্ঠ তফশিলে যোগ করা যায়নি। যার প্রতিবাদে সরব হন সোনম। এছাড়াও, একাধিক দাবীতে সোনম ও তাঁর অনুগামীরা রাস্তায় নামেন। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান তাঁরা। সেই লড়াইতে যোগ দেয় লে অ্যাপেক্স বডি (Leh Apex Body) ও লে অ্যান্ড কার্গিল ডেমোক্রাটিক অ্য়ালায়েন্স। লাদাখের শান্তি শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন সোনম, এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

এরপর আইনি লড়াই শুরু করেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন গীতাঞ্জলি। এমনকি রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েও আবেদন করেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুর জেল মুক্তি নিয়ে কোনও উত্তর দেননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কেন্দ্রের দাবি ছিল, লাদাখে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। সেই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সোনম ওয়াংচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাও জাতীয় নিরাপত্তা আইনে।

এরপর সরাসরি গ্রেফতারির বিরুদ্ধে হিবিস কর্পাসে মামলা করেন গীতাঞ্জলি। প্রশ্ন তোলেন যে জাতীয় নিরাপত্তা আইন দেখিয়ে সোনম ওয়াংচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই ধারা আদৌ সোনমের জন্য লাগু হয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ১০ মার্চ সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে তা নিয়ে কোনও উত্তর ছিল না। ফলে মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ মার্চ ধার্য করেন বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ।

Related articles

মানিকতলার টাকা গুজরাতে যেতে দেবেন না! শ্রেয়ার সমর্থনে রোড শো থেকে কেন্দ্রকে তোপ অভিষেকের 

বিজেপি জিতলে মানিকতলার টাকা গুজরাতে চলে যাবে, আর শ্রেয়া পাণ্ডে জিতলে সেই টাকা এই এলাকার উন্নয়নের কাজে লাগবে!...

মমতার কেন্দ্র থেকে ২৫ হাজার ভোটার বাদ! কমিশনের কারচুপিতে সরব ওমর

লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকে বিজেপির ইশারায় চলা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী জোট। কমিশনের ভোটার তালিকা কারচুপি...

অনুমতি নেওয়া সভায় বিজেপির অসভ্যতা! চরম ক্ষোভে চক্রবেড়িয়ার জনসভা ছাড়লেন মমতা, প্রতিবাদে ভোট দেওয়ার আর্জি

তৃণমূল সুপ্রিমোর সভার অনুমতি ছিল। তার পরেও সভার দিকে তাক করে উচ্চস্বরে মাইক বাজায় বিজেপি। এর প্রতিবাদে সামান্য...

দ্বিতীয় দফা ভোটদান শান্তিপূর্ণ রাখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিশনের

প্রথম দফা নির্বাচনের মতই রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) নজিরবিহীন...