মমতার (Mamata) পথেই জনতা। প্রমাণ হয়ে গেল মানুষ রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই। বেইমানদের সঙ্গে নয়, জননেত্রীর দেখানো পথেই মঙ্গলবার হাঁটলেন জনতা। মানুষ আসলে তাঁর সঙ্গেই। ক্যাথেড্রাল রোডে (Cathedral Road) জনতার গর্জন বুঝিয়ে দিল, মানুষ দুলালের তালমিছরির মতো কোনও ছবি বা লোগোতে বিশ্বাস করেন না। তাহলে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পথ দিয়ে হাঁটেন, সেই পথেই ইতিহাস তৈরি হয়। সেটাই তৃণমূল। তৃণমূলের কোনও শাখা হয় না।

২১ জুলাই মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শহিদ দিবস মানে তিনি ও শহিদ পরিবারগুলি। মঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল বিজেপির গুন্ডারা। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গিয়ে খবর পেতেই রাতে চলে আসেন। প্রায় ভোর রাত পর্যন্ত ছিলেন। তারপর আবার সাড়ে বারোটায়। তিনি মঞ্চে উঠতেই জনগর্জন। কোচবিহার থেকে কাঁথি, পুলিশের সন্ত্রাস, বিজেপির হামলা উপেক্ষা করে যারাই এসেছেন, তাদের কারোর হাতে নেত্রীর ছবি, কারোর হাতে তিরানব্বইয়ের পুরনো ছবি। বুকে নেত্রীর ছবি দেওয়া ব্যাচ। হাওড়া ও শিয়ালদহে (Sealdah) আসা সমর্থকরা বলছিলেন, পুলিশ আর বিজেপির লোকরা আর কংগ্রেসের মিছিলকে আটকাচ্ছে না। তৃণমূলের পতাকা দেখলেই আটকাচ্ছে মারধর করছে। ভয় আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ওনার বিকল্প কেউ হয় নাকি! কোথাকার সব বালিশ-টালিশ। ছাড়ুন তো!

নেত্রীকে নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কর্মীরাই। একুশের মঞ্চে তাঁরাই বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে ব্যারিকেড। নেত্রী বলা শুরু করতেই ঢেউ উঠেছে সদস্য সমর্থকদের মধ্যে। বলেছেন, দিদি কিছুজন চলে গিয়েছে তো কী হয়েছে, গ্রামে-গঞ্জে জেলায় ব্লকে আমরা আছি। কার্যত বিনা প্রচারে এবং বিজেপির রক্তচক্ষু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে স্বতস্ফুর্ত ঢল কলকাতা দেখেছে, তা বিরল। কয়েক শো মিটার দূরে সাজিয়ে রাখা মঞ্চ আর বিহার-ঝাড়খন্ড থেকে আনা লোক। ওখানকার কেউ কেউ তো বলেই ফেললেন, আমরা ক্যাথিড্রাল রোডে দিদির সভায় যাচ্ছিলাম। জোর করে তুলে নিয়ে এল। এসেছিলাম দিদিকে দেখতে। বলতে চেয়েছিলাম তোমার পাশে আছি। এরা সব ধরে এনে ভেস্তে দিল। ফেরার আগে মঞ্চটা একবার ছুঁয়ে আসব। দিদিকে ভালবাসি। সব বিপদে ওনাকে পেয়েছি। এদের মানুষ বিশ্বাস করে না। আর শহিদ দিবস তো দিদির লড়াইয়ের প্রতীক। নিজে আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। বাঁচার আশা ছিল না। আর কোন কাণ্ডজ্ঞানে গদ্দার আর বালিশ শিবির এইদিনে সভা করে! মায়ের পিছনে ছুরি মেরে সাধু সাজা! 

গোটা ক্যাথিড্রাল রোডে দিদির নামে জয়ধ্বনি। তিনি বলতে বললে গর্জে উঠেছেন কর্মী-সমর্থকরা। শোনা গিয়েছে পিজি থেকে। এ এক অদ্ভুত আবেগ দেখল কলকাতা। বেইমান আর বিজেপির শত প্ররোচনা আর গদ্দারি সত্ত্বেও একদিকে যখন মাথা গোনা লোক, তখন ক্যাথেড্রালে ভালবাসার সমুদ্র। মানুষ রয়েছেন মমতা নামের এক আবেগের সঙ্গে। এ আবেগ শত গদ্দারি আর পুলিশের রক্তচক্ষু দিয়ে এক ইঞ্চিও কমানো যায়নি। মমতার পথেই জনতা।