তাঁর নাম কেটে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে আগেই সরব হয়েছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বুধবার, বিরতির পরে আবার অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদলের ঋতব্রত শিবিরের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলতে উঠতেই আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁর মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন কুণাল। প্রশ্ন তোলেন, “আপনি আমার নাম কেটেছেন কেন?” তাঁর সেই প্রশ্ন শোনা যায় মাইকেও। এর পরেই কুণাল ঘোষকে বাধা দেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তেড়ে আসেন বিজেপি বিধায়করাও। বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। স্পিকারের নির্দেশে শেষে মার্শাল দিয়ে চ্যাংদোলা করে কুণালকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসেন মমতা-পন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ, অশোক দেবরাও। পরে বেলেঘাটার বিধায়ককে আজকের মতো অধিবেশন থেকে সসাসপেন্ড করেন স্পিকার।
এদিন স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট বিতর্কে বক্তা হিসেবে কুণাল ঘোষের নাম তাঁদের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত বক্তা তালিকায় কুণালের নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। পরিবর্তে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের একাধিক বিধায়ক বক্তব্য রাখার সুযোগ পাওয়ায় কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিন স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখতে ওঠেন আখেরুজ্জামান। সেই সময় নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন কুণাল। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন কুণাল। প্রশ্ন তোলেন, “আপনি আমার নাম কেটেছেন কেন?” তাঁর সেই প্রশ্ন শোনা যায় মাইকেও। তাতে আপত্তি জানিয়ে বিজেপি এবং ঋতব্রতপন্থী বিধায়কেরা একযোগে প্রতিবাদে করেন। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষ থেকেই কুণালকে থামানোর চেষ্টা হয়। স্পিকার তাঁকে আসনে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু কুণাল নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় বচসা আরও তীব্র হয়।
এরই মধ্যে মমতাপন্থী তৃণমূলের অন্য বিধায়করাও কুণালের পাশে দাঁড়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে আসেন। কুণালকে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে মার্শালরা তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বিধানসভা থেকে বের করে দেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ-সহ মমতাপন্থী তৃণমূলের একাধিক সদস্য ওয়াকআউট করেন। এর পরে এইদিনের মতো কুণালকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার।
















