রাজধানীতে বাড়ছে আন্দোলনের তীব্রতা। একদিকে বর্ডারে পঞ্জাব-হরিয়ানার কৃষকরা, অন্যদিকে যন্তর-মন্তর ছাপিয়ে কনোট প্লেস অবধি ভিড় ছাত্রযুবদের- দিল্লি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, গণতন্ত্রের 'কালো দিন' হিসেবে গত ২০ জুলাই (সোমবার) যেভাবে নির্বিচারে ছাত্র- যুবদের উপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) দিল্লি পুলিশ ( Delhi police) লাঠিচার্জ করেছে তাতে রাগে ফুঁসছে গোটা দেশ। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা দলে দলে উপস্থিত হচ্ছেন যন্তর মন্তরে। "এবার সরকারকে কথা বলতে হলে এখানে আসতে হবে", সাফ জানালেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke, Founder of CJP)।

সংসদ অভিযানের উত্তেজনার পরের দিন একুশে জুলাইও (মঙ্গলবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশের দমন পীড়ন নীতির ছবিটা বদলায়নি। তবে যন্তর মন্তরে ক্রমাগত ভিড়ের ছবিটার বদল হচ্ছে। কারণ যত সময় এগোচ্ছে ততই বাড়ছে জমায়েত- বিক্ষোভ- প্রতিবাদ। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ স্যুইগি-জোমাটো করে খাওয়ার জল পাঠাচ্ছে প্রতিবাদীদের। যাঁরা অরাজনৈতিক, তাঁরাও মুখ খুলতে শুরু করেছেন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্দোলন স্থলে পৌঁছে যান তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। রাতে উপস্থিত হন শিবসেনা প্রধান উদ্ভব ঠাকরে (Uddhav Thackeray)। যন্তর মন্তরের আন্দোলন মঞ্চ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে মহুয়া বলেন, "এই প্রতিবাদ আটকানোর ক্ষমতা মোদি সাহাদের নেই।আন্দোলনকারীরা এখান থেকে কোথাও নড়বে না।"

সিজেপি-র তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা সরকারের ডাকে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তিন দফা দাবি পেশ করেন প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, প্রথমত আন্দোলনকারী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, NEET কাণ্ডের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশ্নপত্র জালিয়াতির জেরে মৃত ২০ জনেরও বেশি নিট পরীক্ষার্থীর পরিবারকে অন্তত ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের দাবি পূরণ হয়নি। তাই এবার যদি কোনও আলোচনা করতে হয় বা কোনও কথা বলতে হয় তাহলে সরকারকে জনতার দরবারে যন্তর মন্তরে আসতে হবে। 

অভিজিৎ (Abhijit Deepke) জানিয়েছেন, এতদিন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করা হচ্ছিল, কিন্তু এবার এই নির্লজ্জ আচরণের পর মোদির পদত্যাগের দাবি তুলছেন তাঁরা। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন অমানবিক সরকারের আসল ছবিটা যাতে ধরা না পড়ে সেই কারণে যন্তর মন্তর-সহ দিল্লির বিস্তীর্ণ জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন এভাবে তাঁদের দমানো যাবে না। প্রতিবাদের স্পৃহা আটকাতে, আন্দোলনের কন্ঠ রোধ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে রাষ্ট্রের নির্মম জবাবের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই চলবে।