দুপুরে এক্স হ্যান্ডেলে প্রবল আক্রমণ করে পোস্ট করা পরে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক তুঘলকি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC) ‘পত্রবোমা’ পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার লেখে তিনপাতার চিঠির ছত্রে ছত্রে কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের লেটার হেডে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে যেভাবে আধিকারিকদের গুচ্ছ বদলি ও সরানোর প্রক্রিয়া চলছে, তা শুধু একপক্ষের সিদ্ধান্তই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর উপর গুরুতর আঘাত।

নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একের পর এক শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকদের বদলি করছে নির্বাচন কমিশন। ১৫ মার্চ রাত থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ ৫০-এরও বেশি আধিকারিককে তুঘলকি কায়দায় সরিয়ে দিয়েছে কমিশন (Election Commission)। এর বিরুদ্ধে বারবার গর্জে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেই “মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব” বলে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই তুঘলকি আচরণ নিয়ে এদিন ফের স্যোশাল মিডিয়ায় সরব হন তৃণমূল সভানেত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেল (X-Handle) একের পর এক কমিশনের নোটিশ পোস্ট করে মমতা লেখেন, ”বর্তমানে যা দেখছি, তা কার্যত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং এক ঘোষণাহীন রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।”

আর তার পরেই মমতা চিঠি লেখেন জ্ঞানেশ কুমারকে। এই সময়ে শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দিলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলাতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, মার্চ-এপ্রিল মাস বাংলায় ঝড়-বৃষ্টির মরশুম। এই সময় উদ্ধার ও ত্রাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অভিজ্ঞ আধিকারিকদের উপর নির্ভর করে। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার পরপরই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ায় সেই সমন্বয় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, “কমিশন বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কাজ করছে।”

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজ্যের ১৫ জন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তও প্রশ্নের মুখে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মমতার অভিযোগ, কোনও অভিযোগ বা বিধিভঙ্গের প্রমাণ ছাড়াই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদেরও ব্যাপক হারে সরানো হয়েছে, যা প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে এই সময়ে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের বদলি করায় বিচারাধীন মামলাগুলির নিষ্পত্তিও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও খবর: অঘোষিত জরুরি অবস্থা: আমলাদের রদবদল নিয়ে ফের কমিশনকে নিশানা মমতার

সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কমিশনের এই পদক্ষেপগুলি শুধু প্রশাসনিক নয়, বৃহত্তর ভাবে জননিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাঁর কথায়, ”এই ধরনের তড়িঘড়ি ও একতরফা সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এবং দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে।”

–

–

–

–
