শিশু মনের সঙ্গী হিসেবে জায়গা করে নেওয়া নবিতা-সিজুকার জীবনে নেমে এলো অন্ধকার। অভিভাবক হারালো ‘ডোরেমন’ (Doraemon)। প্রয়াত ৮৪ বছর বয়সী পরিচালক শিবায়ামা সুতোমু (Doraemon Director Shibayama Tsutomu)। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। গত ৬ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ‘ডোরেমন’ পরিচালকের ইচ্ছে অনুযায়ী গোপনীয়তা বজায় রেখে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘আজিয়া দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস’।

শৈশবের সঙ্গে নীল রঙের রোবট বিড়ালের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে একেবারে অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে। নবিতা-সিজুকাকে চেনে না এমন শিশু খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রিয় অ্যানিমেটিক চরিত্র বললেই সবার আগে উঠে আসে ডোরেমনের নাম। যার পকেট থেকে বেরোনো ‘ব্যাম্বু কপ্টার’ বা ‘এনিহোয়্যার ডোর’ শুধু কল্পনার জিনিস ছিল না, বরং বন্ধু নবিতাকে বাঁচাতে ডোরেমনের ওপর অগাধ ভরসা ছিল একটা গোটা প্রজন্মের। এতদিন ধরে এই সবটা যিনি সামলেছেন, টেলিভিশনের পর্দায় নিপুনভাবে তুলে ধরতে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। সেই ম্যাজিশিয়ান আজ আর নেই। শিবায়ামার (Shibayama Tsutomu) জন্ম হয়েছিল ১৯১৪ সালে। ছয়ের দশকে অ্যানিমেশনের দুনিয়ায় (Hollywood Animation Industry) তাঁর হাতেখড়ি।ক্যারিয়ারের শুরুতেই ‘দ্য গাস্টি ফ্রগ’ পরিচালকের মুন্সিয়ানার প্রমাণ দিয়েছিল। তিনি ১৯৭৮ সালে নিজের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘আজিয়া দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস’ গড়ে তোলেন। ১৯৮৪ থেকে টানা প্রায় একুশ বছর ‘ডোরেমন’ (Doraemon) টিভি সিরিজের চিফ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ‘নবিতা অ্যান্ড দ্য ক্যাসেল আন্ডারসি ডেভিল’ বা ‘ডোরেমন: নবিতা ইন দ্য ওয়ান ন্যান স্পেসটাইম ওডিসি’-এর মতো ব্লকবাস্টার অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রও তৈরি করেছেন তিনি। ২০১২ সালে জাপান সরকারের ‘এজেন্সি ফর কালচারাল অ্যাফেয়ার্স’ (agency for cultural affairs) তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলেও শারীরিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে জর্জরিত ছিলেন শিবায়ামা। তাঁর শেষ ইচ্ছেমেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও খুব শীঘ্রই তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীদের নিয়ে একটি স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ‘আজিয়া দো অ্যানিম’ (Ajia-Do Anime) সংস্থা।

–

–

–

–

–

–

–

–
