তিনি রাজনীতির আঙিনায় নতুন নন, কিন্তু বিধানসভার মহাযুদ্ধে পা রাখছেন এই প্রথমবার। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে ঋতুপর্ণা আঢ্যকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নাম ঘোষণার পরেই জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। একাধারে প্রাক্তন পুরপ্রধানের কন্যা, অন্যদিকে দাপুটে কাউন্সিলর ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার— সব মিলিয়ে ঋতুপর্ণাকে ঘিরে এখন সরগরম সীমান্ত শহর।

বনগাঁর পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারেই ঋতুপর্ণার বেড়ে ওঠা। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে জন্ম নেওয়া ঋতুপর্ণা বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। তাঁর বাবা শঙ্কর আঢ্য এবং মা জ্যোৎস্না আঢ্য দুজনেই বনগাঁর প্রাক্তন পুরপ্রধান এবং তৃণমূলের পরিচিত মুখ। ফলে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির উত্থান-পতন তাঁর খুব চেনা। তবে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল হাত শিবিরের হাত ধরে। কংগ্রেসের টিকিটে পুরভোট জিতে নিজের কেরিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বনগাঁ পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই ঋতুপর্ণা জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো এবং বনগাঁর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে একটি আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা। তাঁর মতে, বনগাঁ দক্ষিণ জিততে পারলে গাইঘাটা ও গোপালনগরের একটা বিশাল অংশের মানুষের চিকিৎসার পথ সুগম হবে। রাজনীতির বাইরেও ঋতুপর্ণার আরও একটি পরিচিতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি একজন সফল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা নজরকাড়া। নিজেকে ‘বিজনেস ওম্যান’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করা ঋতুপর্ণার ফেসবুক প্রোফাইল জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেওয়ার ছবি ও ভিডিও। একদিকে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত ও গ্ল্যামারের মিশেল— সব মিলিয়ে বনগাঁ দক্ষিণের লড়াই এবার এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত বনগাঁর মানুষ এই ‘ঘরের মেয়ে’র উপর কতটা আস্থা রাখেন, তা বলবে সময়।

আরও পড়ুন- শুক্রবারই অতিরিক্ত ভোটার তালিকা? নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক হাইকোর্টের

_

_

_

_

_

_
_

