খামখেয়ালী প্রকৃতির রোষের মুখে ভারত-সহ তিন দেশ! শীত শেষ হয়ে গরমের তপ্ত আবহাওয়া (Climate Change)। আর তার মাঝে ভ্রুকুটি শানাচ্ছে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারতের উপর এক বিশাল মেঘের চাদর বা রেইন ব্যান্ড (Rain Band)। প্রায় এক হাজার কিলোমিটার লম্বা মেঘের চাদরের নীচে ঢাকা পড়েছে তিন দেশ। যা একেবারেই স্বাভাবিক নয় বলেই আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে। যার জেরে এই তিন দেশের বিশাল অঞ্চল জুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সৃষ্টি করেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স। সাধারণত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে এসে শীতকালে তুষারপাত ঘটায়। কিন্তু এই বছর অস্বাভাবিকভাবে এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে শুরু হয়ে পাকিস্তান পেরিয়ে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে প্রায় সোজা রেখার মতো এই বৃষ্টির ব্যান্ড তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এ ধরনের সিস্টেম বাঁকা আকারে থাকে, কিন্তু এবারের সরল গঠন ঝড়ের তীব্রতা বাড়িয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যে বজ্রঝড়ের সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম-সহ উপ-হিমালয় অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের দাবি, ভূমধ্যসাগর, ক্যাস্পিয়ান সাগর, ব্ল্যাক সি এবং আরব সাগর থেকে আসা বিপুল আর্দ্রতা এই সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করেছে। এছাড়া বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে ঘূর্ণাবর্তের উপস্থিতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

আবহবিদরা মনে করছেন, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে তৈরি হয়েছে এই ঘূর্ণাবর্ত। ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত থেকে ঢুকছে ঘূর্ণাবর্তটি। তার জেরেই হিমালয়ের পাদদেশীয় এলাকাগুলিতে চলছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি, স্বাভাবিকের তুলনায় কমছে তাপমাত্রা। সেকারণেই বেশ কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিম জুড়ে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গেও।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিন এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চ মাসে এমন তীব্র আবহাওয়ার পরিবর্তন অস্বাভাবিক এবং তা জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে। এর প্রভাব কৃষিক্ষেত্র-সহ দৈনন্দিন জীবনেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

–

–

–

–

–
