পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আগেই প্রকাশ করতে হবে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও দিনের পর দিন সেই তালিকা প্রকাশে গাফিলতি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। অবশেষে সোমবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের কথা জানানো হল কমিশনের তরফে। সেই সঙ্গে এই তালিকায় নাম বাদ পড়লে চূড়ান্ত আবেদনের করা যাবে প্রাক্তন বিচারপতিদের (former Judge) নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে (Tribunal)। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালের নাম প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।

রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশের শীর্ষ আদালত সর্বশেষ শুনানিতে নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ হাজার অ্যাডজুডিকেশন মামলার যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা যাবে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (supplementary voter list)। সেই নির্দেশের পরে অতিক্রান্ত প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ECI)। গত সপ্তাহের শুক্রবার জানানো হয়েছিল চলতি সপ্তাহে প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। কিন্তু শুক্রবারও তা প্রকাশিত না হওয়ায় সোমবার প্রকাশিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মোট প্রায় ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথের মধ্যে ৪০ হাজার বুথের জন্য সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (supplementary voter list) প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর তা সংশ্লিষ্ট বুথে টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ (adjudication) ভোটারের মধ্যে ২৭ লক্ষ ২৩ হাজারের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি অংশের যাচাই প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

এই তালিকায় যাদের নাম থাকবে না, তাঁরা প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন, এমন নির্দেশ তৈরি করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনাল গঠন করতে শুক্রবার হয়ে গেল নির্বাচন কমিশনের। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৯ প্রাক্তন বিচারপতির নাম জানানো হয়েছে, যাঁরা ট্রাইবুনালের সদস্য।

আরও পড়ুন : অসমে একা লড়বে তৃণমূল: ঘোষিত তারকা প্রচারক

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (supplementary voter list) প্রকাশের পরে এই ট্রাইবুনালে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের (judicial officer) রায়ের পাল্টা আবেদন করা যাবে। সেক্ষেত্রে অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই আবেদন করা যাবে। উত্তর চব্বিশ পরগণার কিছু বিধানসভার জন্য একজন আলাদা পুণর্বিবেচনা আধিকারিক এবং বাকি বিধানসভাগুলি ও কলকাতার জন্য আলাদা পুণর্বিবেচনা আধিকারিক নিযুক্ত হয়েছেন। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের জন্য একজনই পুণর্বিবেচনা আধিকারিক। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার বিধানসভা অনুযায়ী একজন করে আধিকারিক ও শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য ২জন আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলির প্রত্যেকটির জন্য একজন করে পুণর্বিবেচনা আধিকারিক নিযুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকেই প্রাক্তন বিচারপতি, যাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম।


–

–

–

