এবার দুয়ারে চিকিৎসা। প্রশাসনিক সুবিধায় হবে আরও জেলা ও পুরসভা। ‘বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ নাম দিয়ে তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ করে জানালেন দলের সভানেত্রী (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রকে পাশে নিয়ে শুক্রবার কালীঘাট থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সেখানেই মমতা জানান, আগামী পাঁচ বছরের সুশাসনের মূল ভিত্তি এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পথচিত্র এই ১০ ‘প্রতিজ্ঞা’। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমরা যা বলি সেটা করে দেখাই৷ বাংলার আর কোনও উন্নয়ন বাকি আছে বলে মনে হয় না৷ আগামী দু এক বছরে আমরা চাইব সব বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেব৷ প্রত্যেকের কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেবো৷ বিধবা এবং প্রবীণদের ভাতা কিছু বাকি আছে, যাঁদের বাকি আছে সেটাও অনুমোদন দেওয়া হবে৷ আমাদের অঙ্গীকারের৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অনুদানের পরিমাণ আমরা বাড়িয়ে দিয়েছি৷ যাঁরা বলছে এখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেবে, তাঁরা এখন বলছে ভোটে জিতলে আর টাকা দেবে না৷ যুবসাথী প্রকল্পে আমরা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের হাত খরচের জন্য আমরা ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি৷ আমরা ২ কোটি ছেলেমেয়েকে চাকরি দিয়েছি৷“ 

এর পরেই অভিনব প্রকল্পের কথা জানান মমতা। বলেন, দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ার চিকিৎসা পরিষেবা করা হবে৷ দুয়ারে চিকিৎসা নামে প্রতিটি ব্লক, শহরে স্বাস্থ্য শিবির হবে৷ প্রশাসনিক সুবিধায় হবে আরও জেলা ও পুরসভা তৈরি করা হবে বলেও জানান তৃণমমূল সুপ্রিমো। 

এদিন সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা জানান মমতা। দলনেত্রী বলেন, “এবার দুয়ারে চিকিৎসা করব। আগে দুয়ারে সরকার যে করেছি, তা চলবে। দুয়ারে শিবির হবে। দুয়ারে স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্যসাথী আছে। এমপি ল্যাড থেকে ২৫০-৩০০ অ্যাম্বুল্যান্স দিয়েছে। পরে আরও দিয়েছি।”

এর পাশাপাশি কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনীকিকরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই স্কুলগুলিতে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হবে। হবে শিক্ষক নিয়োগও৷ এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের নিশানা করেন মমতা। বলেন, আমরা নিয়োগ করতে চাই। কিন্তু মামলা করে সেটা আটকানো হচ্ছে। 

তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, ”বিশ্বমানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, বন্দর, বাণিজ্য পরিকাঠামো এবং একটি অত্যাধুনিক ‘গ্লোবাল ট্রেড সেন্টার’-এর মাধ্যমে বাংলাকে পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে আমি কাজ চালিয়ে যাব। জঙ্গলসুন্দরী, কর্মনগরী রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। শালবনিতে জিন্দলরা আগে করেছিল বিনিয়োগ। আবার হচ্ছে। ম্যাঙ্গালোররে কোচ এখানে হচ্ছে। ওয়াগন থেকে ইঞ্জিন, সব এখানে তৈরি হচ্ছে। জাহাজ কারখানাও হচ্ছে। এমএসএমই-তেও আমরা এক নম্বরে। এখান থেকে চামড়ার ব্যাগ বাইরে রফতানি হয়। ২০ লক্ষ সেল্ফহেল্প গ্রুপ আছে। যাঁরা গ্রামে জিনিস তৈরি করে, কিন্তু বিক্রির জায়গা পায় না, তাঁদের ব্যবস্থা করেছি।

দেউচা পচামি থেকে সিমেন্টের হাব, চামড়ার হাব, বিদ্যুতের হাব হয়েছে। এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। দেউচা পচামি হলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের সমস্যা হবে না। দাম কমবে।”

প্রশাসনিক কাজে সুবিধার জন্য আরও নতুন জেলা হবে বলেও জানান মমতা। বলেন, ”সাতটি নতুন জেলা করেছি। আগামী দিনেও করব। নতুন ব্লক, সাবডিভিশন, পুরসভা তৈরি হবে। যাতে মানুষ ঘরের সামনে পরিষেবা পেতে পারে।”

প্রবীণ নাগরিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”সকল যোগ্য প্রবীণ নাগরিকের এই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। প্রবীণদের যত্ন। অনেক সময় তাঁদের সন্তানেরা বাইরে চলে যান। তাঁদের দেখার কেউ থাকেন না। তাই প্রবীণদের পাশে, যত্নের আশ্বাসে! এটাও আমাদের অঙ্গীকার।”

সব মিলিয়ে ছাত্র-যুব থেকে কৃষক-শ্রমিক, মহিলা, প্রবীণ সবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলার সার্বিক উন্নয়নের বার্তা দিয়ে ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ জানালেন মমতা।

