Saturday, May 2, 2026

জনসমুদ্রে প্রার্থীরা! রবিবাসরীয় প্রচারে জেলায় জেলায় ঝোড়ো ব্যাটিং তৃণমূলের 

Date:

Share post:

প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই প্রচারের ময়দানে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তালিকা প্রকাশের পর প্রথম রবিবারেই শহর থেকে জেলা— সর্বত্রই ধরা পড়ল ঘাসফুল শিবিরের চনমনে মেজাজ। ছুটির দিনে ঘরোয়া বৈঠক থেকে শুরু করে বিশাল জনসভা ও রোড শো, জনসংযোগের কোনও সুযোগই হাতছাড়া করতে নারাজ প্রার্থীরা। আগামী মঙ্গলবার থেকে জেলা সফরে বেরোচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রথম সভা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায়। শীর্ষ নেতৃত্বের এই কর্মসূচির আগেই এদিন রাজ্যের কোণায় কোণায় প্রচারে ব্যস্ত থাকলেন বিবিধ কেন্দ্রের প্রার্থীরা।

কলকাতার অলিগলিতে এদিন সকাল থেকেই ছিল প্রচারের ব্যস্ততা। টালিগঞ্জের ১১১ নম্বর ওয়ার্ডে বরো চেয়ারম্যান তারকেশ্বর চক্রবর্তী ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরলেন অরূপ বিশ্বাস। বালিগঞ্জের প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সকালে কালীঘাটে গিয়ে মায়ের পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষকে দেখা গেল ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রক্তদান শিবিরে অংশ নিতে। রাজারহাট-গোপালপুরে অদিতি মুন্সির সমর্থনে আয়োজিত কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায়, পার্থ ভৌমিক ও নির্মল ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতারা। সেখানে নিজের সমর্থনে দেওয়াল লিখনও করেন অদিতি।

উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে সোমনাথ শ্যাম শ্যামনগর রবীন্দ্রভবনে বড়সড় কর্মিসভা করে প্রচার শুরু করেন। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করাই লক্ষ্য। বনগাঁ উত্তরে বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ দক্ষিণে নতুন মুখ ঋতুপর্ণা আঢ্যও এদিন ময়দানে নেমেছেন। ঋতুপর্ণা এদিন একটি নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধনও করেন।

তবে রবিবারের প্রচারের সবথেকে নজরকাড়া দৃশ্য দেখা গিয়েছে পাণ্ডবেশ্বরে। সেখানে প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে আয়োজিত মহামিছিল কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ডিভিসি মোড় থেকে স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ পথে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে অকাল হোলির আমেজ তৈরি হয়। নরেন্দ্রনাথবাবু বলেন, এই জনজোয়ারই প্রমাণ করছে মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৃণমূলকেই বেছে নেবে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতেও সক্রিয় ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেলে ডেবরা বাজারে মহিলা তৃণমূল নেত্রীদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করার পর একটি বর্ণাঢ্য মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। সব মিলিয়ে ছুটির দিনে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে বিজেপি বিরোধী ঐক্য ও মা-মাটি-মানুষের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন জোড়াফুল শিবিরের সৈনিকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের এই প্রাথমিক গতি ধরে রেখে বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এখন তৃণমূলের মূল কৌশল।

আরও পড়ুন – সোমবার প্রকাশ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা, ভাগ্য নির্ধারণ ২৭ লক্ষের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

পুনর্নির্বাচনের প্রথম দেড় ঘণ্টা পার, নির্বিঘ্নেই চলছে ভোটদান 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (WBLA 2026) দ্বিতীয় দফায় ইভিএম কারচুপির অভিযোগের জেরে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫ টি বুথে...

বারাসতে স্ট্রংরুমে সিসি ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ, কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন

বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজের স্ট্রংরুমে সিসি ক্যামেরা বন্ধের অভিযোগ। শনিবার সকাল আটটা পাঁচ থেকে আটটা বাইশ মিনিট পর্যন্ত মনিটার...

গণনাকেন্দ্রের রণকৌশল নিয়ে আজ কাউন্টিং এজেন্টের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক অভিষেকের, থাকবেন মমতাও

বাংলার শাসনভার থাকবে কার হাতে, জনতার রায় প্রকাশ্যে আসবে আগামী সোমবার (৪ এপ্রিল)। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫টি...

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা, সিসিটিভিহীন ঘরে ব্যালট ঢোকানোর অভিযোগ!

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে (Khudiram Anushilan Kendra) শনিবার ভোট ৪টে নাগাদ সিসিটিভি নজরদারি (CCTV surveillance) নেই এমন ঘরে ৮টি...