মণীশ কীর্তনিয়া

২০২১-এর নন্দীগ্রাম। বয়ালের বুথে ভাঙা পা নিয়ে হুইলচেয়ারে ঢুকছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ তার কাছে খবর ছিল সেখানে কারচুপি চলছে। পায়ের ওই অবস্থাতেই তিনি সটান হাজির ভরদুপুরে প্রচণ্ড গরমে। সঙ্গে তামাম মিডিয়া। তারপরের ঘটনা গোটা দেশ জানে। মাঝখানে লোডশেডি (loadshedding) ও তারপরে গদ্দারের কুৎসিত আস্ফালন।

কাট টু ২০২৬। সেই নন্দীগ্রাম (Nandigram)। এবার বিরুলিয়া। মার্চের এই ভরা গরমেও নন্দীগ্রামের এই চত্বরে দাঁড়িয়ে মেঠো হাওয়ায় মন ভালো হয়ে যায়। বিকেল চারটের কিছু আগে নন্দীগ্রামের আকাশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হেলিকপ্টার। অবশ্য তার বহু আগেই প্রায় বেলা বারোটা থেকেই কাতারে কাতারে কর্মীরা ঢুকছেন। শুধু যে নন্দীগ্রাম তা তো নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও বহু মানুষ এসেছেন শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে। যোগেশচন্দ্র পাল, বীরেন জানা, মধুশ্রী বাগ, মিতালী দত্ত রায়, শিক্ষক শুভময় রক্ষিত— সকলেই হাজির হয়েছেন বিভিন্ন কারণে। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, লিখে রাখুন এবার লোডশেডিং করেও কিছু করা যাবে না। নন্দীগ্রামে হারছে গদ্দার। জিতবে ভূমিপুত্র পবিত্র কর।


নন্দীগ্রাম আছে নন্দীগ্রামেই। তবে বদলে গিয়েছে মানুষের মন। এবার তারা ডোমবি গ্রামে প্রত্যাবর্তন নয়, পরিবর্তন চান। নন্দীগ্রামকে একটা সময় গাদ্দারদের গড় বলা হত, এই নন্দীগ্রামেই এখন চাপে বিজেপি। আর সব থেকে বেশি চাপে দলবদলু নিজে। এখন তাঁর দিশেহারা অবস্থা। ভবানীপুর সামলাবে নাকি নন্দীগ্রাম! জেতার কোনও সম্ভাবনাই নেই এ কথা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে ভবানীপুরের মানুষ। আর নন্দীগ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পবিত্র কর। চেহারায় ধরা পড়ছে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস। আর নন্দীগ্রামে সাধারণ মানুষ বলছে, এবার আমরা রায় দেব। পরিবর্তনের পক্ষেই।

–

–

–

–

–
