শান্তিপূর্ণ রামনবমী পালন ভেস্তে দেওয়ার বহু চক্রান্ত বিভিন্নভাবে রাজ্যে হয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কীভাবে চক্রান্ত করে রাজ্যকে নির্বাচনের আগে অশান্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার রানিগঞ্জের সভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে (BJP) শুক্রবারের রঘুনাথগঞ্জের (Raghunathganj) অশান্তি নিয়ে দায়ী করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। এক তরফা হামলায় একজনকেও ছাড়া হবে না বলে সরব মমতা। সেই সঙ্গে রাজ্যে প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) হাতে চলে যাওয়ার পরে বেহালায় (Behala) সাধারণ ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙা নিয়েও নির্বাচনী প্রচার থেকে সরব হন তিনি।

শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে রামনবমীর মিছিল থেকে এলাকায় দোকানে হামলায় ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ ধরে পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তাপও ছড়ায়। তবে পুলিশ দ্রুত এলাকা দখল করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে অপরাধীদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করে। সেই ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আমার হাত থেকে লোক সরিয়ে দিয়ে রঘুনাথগঞ্জে (Raghunathganj) হামলা করিয়েছ। বিজেপি (BJP) করিয়েছ। তোমার লজ্জা থাকা উচিত। সেই জন্যই সবাইকে সরিয়েছ। যাতে হামলা করা যায়। রঘুনাথগঞ্জে দোকান ভেঙেছ। রঘুনাথগঞ্জে হামলা করার অধিকার তোমাদের কে দিল। তোমরা একতরফা করেছ। মিছিল থেকে বেরিয়ে দোকান লুটপাট করেছ। দোকান বাড়ি পুড়িয়েছ। সেই সঙ্গে মমতার হুঁশিয়ারি, আজ নাহলেও কাল তোমাদের একটাকেও ছাড়ব না। মানুষ তোমাদের বিচার করবে।

বাংলায় যে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে, রানিগঞ্জের নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে সেই তথ্য তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তুমি রামনবমীর (Ramnabami) মিছিল করো আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের ছেলেমেয়েরাও করে। তোমরা পরশু সিউড়িতে (Suri) মিছিল করেছ। বন্দুক উঁচিয়ে মিছিল করেছ। জানি না কেন প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।


আদতে প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন করে বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম নীতি প্রণয়ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাতেও যেভাবে বিজেপি সরকারের বুলডোজার নীতি লাগু করতে চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন, তার ব্যাখ্যা করে মমতা দাবি করেন, আমাকে দোষ দেবেন না। আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। সব নিজেদের মতো অফিসার নিয়োগ করেছে। উকুন বাছার মতো বিজেপির লোক দেখে দেখে নিয়োগ করেছে। আমরা চাই সবাই নিরপেক্ষভাবে কাজ করুক।

আরও পড়ুন : বাংলায় উৎপাদিত গ্যাস বাইরে পাঠানো যাবে না: বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

একইভাবে কমিশনের নিয়োগ করা আধিকারিকরা কলকাতার বেহালাতেও (Behala) যেভাবে বুলডোজার (bulldozer) চালিয়েছে, তার বর্ণনা করে মমতা দাবি করেন, আমি দুঃখিত। আমি ক্ষমা চাইছি। বেহালায় সেই সব দোকানদারকে কাছে। ফিরহাদ হাকিম ওখানে মেয়র থাকলেও ওখানে কমিশনার নিয়োগ করেছে বিজেপির লোককে। তাঁকে অনুরোধ করব আগুনে পা দিয়ে খেলবেন না। কাল বুলডোজার চালিয়েছে। অনেক দোকান বেহালায় ভেঙে দিয়েছে। আমার হাতে নেই। বেহালাবাসী আমি দুঃখিত। যে দোকান বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে আমি আবার করে দেব। আমাকে সময় দিন। এরা চিরকাল থাকবে না। আমাদের নির্দেশে হবে না।

–

–

–

