বাংলার খাবারের উপরে আপনাদের কীসের এত হ্যাংলামি আর নোংরামি! সোমবার, দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার মঞ্চ থেকে বিজেপিকে (BJP) তীব্র আক্রমণ তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। ডেবরার পরে পাঁশকুড়ার সভা থেকেও বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বিজেপির কটাক্ষের তীব্র ভাষায় জবাব দিয়েছেন মমতা। সতর্ক করে বলেন, ”কেউ যদি ওদের টাকা নিয়ে ভোট দেন, তবে ভবিষ্যতে আর মাছ-মাংস খেতে পারবেন না!”

বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে (Election Campaign) এদিন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল সভানেত্রী। শেষসভা ছিল পাঁশকুড়ায়। সেখানে দলীয় প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতির হয়ে প্রচার সভা করেন মমতা। ‘লুটেরার দল’ বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “করছে লুট, বলছে ঝুট। দেশটাকে বিজেপি যেভাবে চালাচ্ছে, দু’মাসের মধ্যে ওদের দিল্লি ছেড়ে পালাতে হবে।”

এর পরেই বিজেপির আমিষ খাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “বাংলার খাওয়া-পরা বন্ধ করার দল বিজেপি। কেউ যদি ওদের টাকা নিয়ে ভোট দেন, তবে ভবিষ্যতে আর মাছ-মাংস খেতে পারবেন না!” তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “বাংলার খাবারের উপরে আপনাদের কীসের এত হ্যাংলামি আর নোংরামি! মাছ খাবে না, মাংস খাবে না, ডিম খাবে না। তা কি ওদের মাথা খাবে!”

বাংলাভাষীদের উপর ভিনরাজ্যে আক্রমণের ঘটনা নিয়েও এদিন সুর চড়ান তৃণমূল সভানেত্রী। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যান, বাংলায় কথা বললে আপনাকে হোটেলে থাকতে দেওয়া হবে না। বাংলায় কথা বললে আপনার উপর অত্যাচার হবে, পিটিয়ে খুন করা হবে। যেখানে বিজেপি আছে, সেখানে মাছ খেতে দেয় না। মাছের দোকান বন্ধ। মাংসের দোকান বন্ধ। ওরা বড় অন্ধ।”

বাংলায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, ”আমার কাছে সংখ্যালঘু, মহিলা, তফসিলি- সকলেই থাকবে। সংখ্যালঘুরা কি প্রশ্ন করেছেন, মমতা ব্রাহ্মণের ঘরের মেয়ে। তাঁকে কেন মুখ্যমন্ত্রী করা হবে? করেননি। মুসলিমকে প্রার্থী করা হলে হিন্দুরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। তা হলে আমার অসম্মান হবে। সব ক’টি আসন গুরুত্বপূর্ণ। একটা সিটে হারলে সেটা নিয়ে বিজেপি আপনার মাছ খাওয়া বন্ধ করবে। অসম্মান করবে। বাইরে কাজ করতে গেলে হোটেলে থাকতে দেবে না। পরিযায়ীরা আসতে চাইছে, ট্রেনের টিকিট দেয় না। এই ষড়যন্ত্রকারী দলকে চান? দেখবেন ফুল শুকিয়ে যাবে।”

তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “এরা ধর্মের নামে প্রচার করে। আর ধর্মকে বিপথে ফেলে দেয়। এরা কোনও ধর্ম মানে না। এরা বকধার্মিক। ধর্মকে বিক্রি করে। আমরা ধর্মকে ঘরে রাখি, সম্মান করি। এরা ধর্ম বেচে খায়। আর আমরা মানবিকতার জন্ম দিই। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের তফাত।”

–

–

–

–
–
