বলতে গেলে সব জাতীয় দলের পরে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল জাতীয় কংগ্রেস। প্রার্থী খুঁজে পাওয়া নিয়ে সমস্যা, না গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিন্তায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশে এত দেরি, তা স্পষ্ট ছিল না। তবে রবিবার প্রথম প্রার্থী তালিকা (candidate list) প্রকাশ হতেই স্পষ্ট হয়ে যায় কারণটা। একের পর এক জেলায় শুরু হয় বিক্ষোভ। আর বুধবার সেই বিক্ষোভের আঁচ টের পেল কলকাতা শহর। সোমেন মিত্রর ছেলে রোহন মিত্রকে (Roahan Mitra) প্রার্থী করার বিরোধিতা করে এমন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কংগ্রেসের (Congress) বিধান ভবন (Bidhan Bhavan), যেখানে ফাটল কর্মীর মাথা। অভিযোগ মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানিরও।

রবিবার প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার পরেই শুরু হয়ে যায় কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ (Congress agitation)। কখনও মালদহের চাঁচল, কখনও আলিপুরদুয়ার, আবার কখনও পশ্চিম মেদিনীপুরে দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রার্থীপদ থেকে বঞ্চিত কংগ্রেস নেতাদের অনুগামীরা। অন্তত ৬ জেলায় বিক্ষোভে সামিল হন কংগ্রেস কর্মীরা।

এবারা কলকাতার বালিগঞ্জ (Ballygaunge) কেন্দ্রের কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী সোমেন মিত্রর পুত্র রোহন মিত্রর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সরব হন স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা। অন্যদিকে রোহন মিত্রর সমর্থকরা তাঁদের প্রতিবাদ করতে থাকেন। বুধবার সকাল থেকে দুপক্ষের কর্মীরা ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার পর ক্রমশ বাড়তে থাকা অশান্তি হাতাহাতি ও রীতিমত মারামারির চেহারা নেয়। কিন্তু কোনও শীর্ষ নেতৃত্ব কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের (INC) সদর দফতরে অশান্তি থামাতে এগিয়ে আসেননি।

আরও পড়ুন : অধীর-মৌসমকে রেখে কংগ্রেসের প্রথম প্রার্থী তালিকা: রাজ্যে ২৮৪ আসনে প্রার্থী!

কর্মীরা দাবি করেন বালিগঞ্জ কেন্দ্রে স্থানীয় নেতা জায়েদ খানকে প্রার্থী করতে হবে। এমনকি তাঁরা অভিযোগ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার টাকার বিনিময়ে রোহন মিত্রকে (Roahan Mitra) প্রার্থী করেছেন। অশান্তি চলাকালীন বিধান ভবনের (Bidhan Bhavan) অশান্তিতে যোগ দেন জায়েদ খানও। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। ঘটনায় মাথা ফাটে এক কংগ্রেস কর্মীর। সংজ্ঞা হারান এক মহিলা কর্মী। তাঁর সঙ্গে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ ওঠে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে সকালে এই বিক্ষোভেই শেষ হয়নি কংগ্রেস কর্মীদের অশান্তি। বিকালে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধান ভবন। কলকাতার পাশাপাশি জেলা থেকে কংগ্রেস কর্মীরা এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হাওড়া (Howrah), মেদিনীপুর (Medinipur) থেকে কর্মীরা এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এমনকি বালিগঞ্জের পরে টালিগঞ্জ (Tollygaunge) কেন্দ্রের প্রার্থীরাও এসে বিক্ষোভ দেখান বিকালে। অন্যদিকে বিধান ভবনের ভিতর থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারে (Subhankar Sarkar) সমর্থনে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রতিহত করার চেষ্টা করেন কিছু কর্মী। যার ফলে সকালের পরে বিকালে ফের একবার উত্তপ্ত বিধান ভবন।

–

–

–
–
