মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-র পক্ষ থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, মালদহ-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি-সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা রাজ্যের কড়া প্রশাসনিক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

নবান্ন সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তারা কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কালিয়াচকের ঘটনাটি ঘটার পরেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করেছে। প্রশাসনিক স্তরে কোনো রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না— এই বার্তাই সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশ যে বদ্ধপরিকর, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে ছ’টি মূল লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার তা কার্যকর করতে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। বিশেষ করে বুথ দখল রোধ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটদানের যে পরিবেশ বাংলায় বর্তমান, তাকে আরও সুসংহত করতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দিনের বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে। কালিয়াচকের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে, অশান্তি রুখতে রাজ্য পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়। আগামী দিনেও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে রাজ্য প্রশাসন।

আরও পড়ুন – অন্নদাত্রীর শেষযাত্রায় মৃতাকে জড়িয়ে রইল বানর, চোখ ভিজলো নেটপাড়ার

_

_

_

_

_
_
_
