মণীশ কীর্তনিয়া
এবার মোদিকে এক মঞ্চে বিতর্কে আহ্বান জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মালদহের হবিবপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে (Prime Minister) চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নেত্রী বলেন, মুখোশ আমি টেনে খুলে দেব। প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার মুখোমুখি হতে। হিম্মত থাকলে এক মঞ্চে আসুন। উনি আগে থেকে বক্তৃতা লিখে রাখেন। টেলি প্রম্পটার ছাড়া একটা কথাও বলতে পারেন না। এর পরই নেত্রীর হুংকার, বিজেপিকে বেলাইন করার জন্য আমরা এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়াব।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিঁধে তিনি বলেন, মালদহ (Maldah) শহরের লোকসভায় দুটি আসন। একটা কংগ্রেস, একটা বিজেপি জিতেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলেন! ২০২৪-এ আপনি তো সেই অনুপ্রবেশকারীদের ভোটেই জিতেছেন। আপনি আগে পদত্যাগ করুন। এর পরই প্রধানমন্ত্রীকে (Prime Minister) আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর (TMC Supremo) হুঙ্কার— হিম্মত থাকলে একমঞ্চে এসে আমার মুখোমুখি হন।

ভোটের মুখে রাজ্যের ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে এদিন বিজেপি ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, এত অফিসারকে কেন সরিয়েছে জানেন? যাতে ভোট লুঠ করতে পারে। যাতে ড্রাগ, মাদক, মানি লন্ডারিং করতে পারে। বর্ডার দিয়ে লোক ঢোকাচ্ছে। বিজেপি এই অন্যায়গুলো করবে বলে এত লোককে সরিয়েছে। বিজেপিকে ‘উন্নত মানের বিষ’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি ‘দালালরা সাবধান’।

মালদহের কালিয়াচক-মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়েও এদিনের সভা থেকে সরব হন তৃণমূলনেত্রী। ঘটনার জন্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম-কে কটাক্ষ করেছেন মমতা। মালদহে বিচারকদের আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় তাদেরই দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, মালদহের একটা ঘটনা বাংলার সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে। স্থানীয় লোকেরা এর জন্য দায়ী নন। তাঁদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল। তার সঙ্গে কিছু সাম্প্রদায়িক লোকজন। মালদহে তারাই এ সব করছে। আমরা হাতেনাতে ধরেছি। বিমানবন্দর থেকে সিআইডি ধরেছে। বিচারকদের কারা আটকে রেখেছিল? বহিরাগতেরা। এমনকী ওয়েইসির (Asaduddin Owaisi) দল পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোট কেটে তৃণমূলের ভোটবাক্সে ভাগ বসাতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাম না-করে ওয়েইসির দলকে কটাক্ষ করে ফের তিনি বলেন, ভোট কাটার খেলা চলছে। হায়দরাবাদ থেকে আসছে ভাই, সঙ্গে আছে গদ্দার ভাই।

আরও পড়ুন : কেন্দ্রীয় এজেন্সি আসার আগেই মোথাবাড়ির ঘটনায় গ্রেফতার মিম নেতা, সিআইডিকে কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রীর

অমিত শাহকে (Amit Shah) নাম না করে ‘মোটাভাই’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, আগে মণিপুর সামলান মোটাভাই। সঙ্গে এজেন্সি আছে। তাই খুব মজায় আছে। ফোন করে করে লোকজনকে ভয় দেখান। কাজই ফোন করে ভয় দেখানো! আমাকেও একদিন করেছিল। ভাল করে গুঁতিয়ে দিয়েছি। লড়াই করতে হলে সামনাসামনি করো।

সবশেষে সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর বার্তা, এবারের ভোট, নামকাটার বদলা, এত মানুষের মৃত্যুর বদলা। বিজেপিকে শূন্য করে দিন, বাংলাকে পুণ্য করে দিন।

–

–
–

