সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ ছিল। কিন্তু কাজের বেলায় সেই তিমিরেই পড়ে রইল বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনাল। তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে যে ট্রাইবুনাল গড়ার কথা ছিল, ভোটের মুখে তা কার্যত বিশ বাঁও জলে। ফলে প্রথম দফার ভোটে লড়তে চাওয়া যে সব প্রার্থীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ট্রাইবুনালের জন্য নামকাওয়াস্তে জায়গা নির্দিষ্ট করা হলেও, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বসার মতো ন্যূনতম পরিকাঠামো এখনও তৈরি হয়নি। কোথায় শুনানি হবে, নথিপত্রই বা কোথায় জমা পড়বে— তা নিয়ে শনিবার রাত পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট দিশা মেলেনি। ফলে ট্রাইবুনালের কাজ কবে থেকে ঢিমেতাল ছেড়ে গতি পাবে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে প্রার্থী হওয়া অসম্ভব। ইতিমধ্যেই বহু প্রার্থীর নাম জুডিশিয়াল অফিসারদের স্ক্রুটিনিতে বাতিল হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনাল যদি সোমবারের মধ্যে সক্রিয় না হয়, তবে ওই সব প্রার্থীরা আর আবেদনের সুযোগই পাবেন না। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা আইনি জটিলতায় অনেক আসনেই লড়াইয়ের সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নবান্ন ও কমিশন সূত্রের খবর, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই শুনানি করতে চান। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে সোমবারের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা একপ্রকার অসম্ভব বলেই মনে করছেন আধিকারিকদের একাংশ। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ক্ষোভ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে প্রার্থীদের আইনজীবীরা হাত গুটিয়ে বসে নেই। জানা গিয়েছে, ট্রাইবুনাল সক্রিয় না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগামী সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন তাঁরা। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পরেও কেন পরিকাঠামো গড়তে এই গড়িমসি, তা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। ভোটের দামামা বাজার পর এই টালবাহানা আদতে প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

আরও পড়ুন- তৃণমূলের নালিশের পরেই ব্যবস্থা! পানিহাটির অভিযুক্ত সেক্টর অফিসারকে শোকজ-অপসারণ কমিশনের

_

_

_

_
_
_

