Tuesday, April 7, 2026

কার গাফিলতিতে রাহুলের মৃত্যু? দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন লীনা-পুত্র অর্ক!

Date:

Share post:

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের (Leena Gangopadhyay) সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের (Magic Moments) ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র (Bhole baba par karega) শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Bandopadhyay)। প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে টলিপাড়ায়। এই আবহে মুখ খুললেন লেখিকার ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় (Arko Gangopadhyay)। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টে উল্লেখ করলেন রাহুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ। বিশেষ বার্তা দিলেন ১৩ বছরের সহজকেও।

অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে শিল্পী থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা। কলকাতা ও তালসারি দু জায়গাতেই এফআইআর করেছেন অভিনেতা পত্নী প্রিয়াঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar)। শ্যুটিংয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার থেকে স্টুডিও পাড়ায় শুরু হয়েছে কর্মবিরতি। এসবের মাঝেই হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট শিরোনামে নিয়ে এল লেখিকার ছেলে অর্ককে। তিনি সমাজমাধ্যমে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রথম আলাপ থেকে বিভিন্ন সময় কাজের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেছেন। কীভাবে অরুণোদয় ‘ভোলেবাবা…’ ধারাবাহিকে সুযোগ পেয়েছিলেন তাও উল্লেখ করেছেন। অর্ক তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, রাহুলের হাতে যখন কাজ ছিল না, তখন তাঁকে ফোন করে কাজের খোঁজ নিয়েছিলেন রাহুল। কাজও নাকি চেয়েছিলেন। লীনা পুত্রের কথায়, “একদিন রাহুল ফোন করে। আমি তার কিছুদিন আগে ‘খোঁজ’ বলে একটা ছবি বানিয়েছিলাম-বোধহয় সেটা দেখেই জানাতে ফোন করেছিল, বা সেরকমই কিছু একটা হবে। কথায় কথায় বলল, ওর একটা প্রোজেক্ট বেশ কিছুদিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে, আর এখন হাতে কোনো স্থায়ী কাজ নেই। আমিও ওকে বলি – আমি একটা নতুন কোম্পানি খুলেছি, এবার ইনডিপেন্ডেন্টলি প্রোডিউস করার কথা ভাবছি। একটা ওয়েব অ্যান্থোলজি বানিয়েছি, আর বোধহয় একটা সিরিয়ালও শুরু হতে পারে। রাহুল সোজাসুজি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “এই তো, তাহলে আমাকেই নে! কেন, মানাবে না?” এতটা ডিরেক্ট কথা শুনে প্রায় হাসিই পেয়ে গিয়েছিল। আমি বলি, “ভাই, আমার কাছে কি তোকে অ্যাফোর্ড করার মতো বাজেট আছে?” রাহুল বলে, “আমার এখন কাজের দরকার, আর তোর প্রথম সিরিয়াল – কাজটা আমি-ই করব কিন্তু।” তারপর একটা নাম্বার বলে, “এই টাকা দিতে পারবি তো? তাহলেই হবে।” আমি জানতাম, ও সাধারণত এর থেকে অনেক বেশি পারিশ্রমিক নেয়। তার ওপর ওর মতো কাউকে নিতে পারলে প্রোজেক্টের ওজনও অনেকটা বেড়ে যাবে। তাই ও যে অ্যামাউন্ট-টা বলল, তার কাছাকাছি একটা অ্যামাউন্ট-এই আমি রাজি হয়ে যাই। মনে মনে জানতাম, চ্যানেল নিশ্চয়ই খুশিই হবে – রাহুলকে লক করতে পেরেছি শুনে। তবু বললাম, “একদিন সময় দে – চ্যানেলের সঙ্গে একবার কথা বলে নিই। আমাদের দিক থেকে তো লকড।”

অভিনেতার মৃত্যুতে প্রযোজনা সংস্থা বিবৃতি দিলেও সরাসরি রাহুলের মৃত্যু নিয়ে একেবারেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন চিত্রনাট্যকার। অথচ অর্কর দাবি, রাহুলের সঙ্গে নাকি তার মায়ের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল এবং তিনি অভিনেতার কথা ভেবেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চরিত্র রূপায়ণ করেছিলেন ‘দেশের মাটি’ ধারাবাহিকে, পরবর্তীকালে যা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। তাহলে সেই লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এতটুকু সংবেদনশীলতা দেখালেন না কেন? সযত্নে এ প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন অর্ক। উল্টে নিজের অবস্থানের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে জানান, “রাহুলের অ্যাক্সিডেন্ট-এর পরে অনেক জার্নালিস্ট-এর ফোন পেয়েছি। যাদের সাথে খুবই পার্সোনাল বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের বাদে কারুর ফোন তুলিনি। যারা মনে মনে ভাবছেন কেন তুলিনি, ছেড়ে দিন, আপনারা বুঝবেন না। পরিচিত, অপরিচিত সব জার্নালিস্ট-ই জানেন – আমি ম্যাজিক মোমেন্টস-এর মুখপাত্র নই – কী হয়েছে এটা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতো বলা একটা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে তখন ঘটনাস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূরে। ঘটনাস্থলে অনেক কলাকুশলী ছিলেন, অভিনেতারা ছিলেন – তারা যা বলেছেন তার থেকেই আমাদের সবাইকে ইনফারেন্স ড্র করতে হচ্ছে। পুলিশ তদন্তের জন্য অনেক ডকুমেন্ট, ফুটেজ ইত্যাদি সিজ করেছে বলে জানি। রাহুলের শেষ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ ড্রোন ক্যামেরা-য় বন্দি। সেই ফুটেজ দেখতে চাওয়ার অধিকার অবশ্যই রাহুলের পরিবারের মানুষদের থাকতে পারে, কিন্তু আপনারা যারা বলছেন সেটাকে সোশ্যাল মিডিয়া-তে পাবলিক করে দেওয়া হোক – তারা কী বলছেন ভেবে বলছেন তো? আমি জানি ওর পরিবারের মানুষ জানতে চায় এত স্টেটমেন্ট-এর মধ্যে কোনটা তারা বিশ্বাস করবেন, কি সেফটি মেজারস ছিল, আমার ধারণা সেটা জানতে চাওয়ার পূর্ণ অধিকার ওর পরিবার, বন্ধু বান্ধবদের রয়েছে। তাই প্রোডাকশন কোম্পানি-র থেকে জানতে চাওয়া বা পূর্ণ তদন্তের দাবি করা বা পুলিশ-এর থেকে জানতে চাওয়া – এর সবকটাই স্বাভাবিক এবং যথেষ্ট ন্যায্য। যদি অবহেলার ১% ও সম্ভাবনা থাকে, তার তদন্ত হওয়া উচিত, প্রতিবাদ হওয়া উচিত, পদযাত্রাও হওয়া উচিত। কিন্তু আপনাদের conscience-কে একবার জিজ্ঞেস করুন – যাদের প্রথম সারিতে রেখে আপনারা হাঁটলেন, তাদের দেখতে পেলে রাহুল নিজে লজ্জিত হতো না তো?”

নিজের পোস্টে টলিপাড়ার সুরক্ষার দাবিতে নেওয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি অর্ক। তাঁর কথায়, ‘ইন্ডাস্ট্রি-তে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি-র স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন হওয়া উচিত – কিন্তু গা বাঁচানোর আর পার্সোনাল অ্যাটাক আর নিজের পার্সোনাল এজেন্ডা-কে এস্টাবলিশ করার র‍্যালি হওয়া উচিত নয়। এটা আপনারাও জানেন – হয়তো ভেবে দেখেননি, তাই একটু ভাবতে অনুরোধ করলাম। তারপর আপনাদের যা ঠিক মনে হয় সেটাই করবেন। ফেডারেশন আর EIMPA মিলে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিয়ে গাইডলাইনস তৈরি করতে চায়, সাধুবাদ জানাই – নিশ্চয়ই সাধ্য মতো সহযোগিতা করব। বছর খানেক আগে যে লাইটম্যান অন জব ইলেকট্রিফায়েড হয়ে মারা গেছিল, বা যে ছাদ থেকে পড়ে গেছিল লাইট বাঁধতে গিয়ে, তারা-ও আমাদের ভাই। তাদের নিয়ে হয়তো নিউজ হয়নি, কিন্তু তাদেরও পরিবার আছে। প্রতিবাদ পার্সোনাল এজেন্ডা হয়ে গিয়ে দুজন মানুষের জীবনের দামের মধ্যে যাতে ইমপার্শিয়ালিটি ক্রিয়েট না করে, সেটা এনশিওর করা-ও আমাদের সবারই কর্তব্য।’

অর্ক তাঁর দীর্ঘপোস্টে রাহুলের ছেলে সহজের উদ্দেশ্যে লেখেন, “তুমি আমাকে কখনও দেখোনি কিন্তু তুমি আমার খুব আদরের। আমি জানি তুমি অলরেডি এক ঝটকায় অনেকটা বড় হয়ে গেছো, আরও বড় যখন হবে তখন নিশ্চয়ই পুরো বিষয়টা বুঝবে। কারুর কথা শুনে নয়, নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়েই বুঝবে। তখন হয়তো বুঝবে এই আঙ্কলটা তোমার বাবাকে আরও অনেকের মতনই ভালবাসত।” অর্কর পোষ্টের পরই নাম না করে কটাক্ষ করেছেন প্রযোজক রানা সরকার।

Related articles

মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করলে মুখোশ খুলে দেব: বনগাঁয় হুঙ্কার মমতার

মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করলে মুখোশ খুলে দেব- বনগাঁর জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা...

শিল্পী- কলাকুশলীদের সুরক্ষা বিধি নিয়ে বৈঠক টলিপাড়ায়, মিটিংয়ে উপস্থিত ফোরাম-ফেডারেশন

বাংলা বিনোদন জগতের শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজের জায়গায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বহুদিন ধরেই সওয়াল করে...

”রাজ্যে বহিরাগত ঢোকাচ্ছে বিজেপি”, চাকদা থেকে কেন্দ্রকে তোপ মমতার

''বহিরাগতদের বাংলায় নিয়ে এসে চক্রান্ত করছে বিজেপি'', চাকদহের মশড়া নবপল্লী মাঠের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে ফের সরব...

পদত্যাগ করলেন এয়ার ইন্ডিয়ার CEO ক্যাম্পবেল উইলসন

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও (Air India CEO) ক্যাম্পবেল উইলসন। গত সপ্তাহের বোর্ড মিটিংয়ে...