ফের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের আঁতাঁতের প্রমাণ দেখিয়ে তোপ দাগলো তৃণমূল (Trinamool Congress)। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ছবি ফাঁস করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “নির্বাচন কমিশন (Election Commission) পুরোদস্তুর বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। বিজেপির সংগঠন নেই তাই দায়িত্ব যেন নিজেরাই কাঁধে তুলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের লোকজন।”
ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন। শুরু থেকেই তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে চলছে কমিশন। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেন, বাংলায় পরিকল্পনা করে এসআইআরের নামে বৈধ নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন। এদিন কমিশন-বিজেপির এক হওয়ার সেই অঙ্কই ফের বোঝালেন কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নন্দীগ্রাম ঘুরতে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপ দাগেন কুণাল। দলবদলু বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক প্রথমেই বেড়াতে গেলেন নন্দীগ্রামে। সেখানে তাঁর সঙ্গে ঘুরছেন বিজেপির কালীচরণপুরের অঞ্চল কোঅর্ডিনেটর। এর আগে নন্দীগ্রাম ২ এর বিডিও সুরজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল।”
আক্রমণ শানান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তীব্র আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “উনি নন্দীগ্রামে যেতেই পারেন। কিন্তু সঙ্গে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ট তপনকুমার মহাপাত্র। তাঁকে সিইও-র সঙ্গে ঘুরতে দেখা গেল। এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে?”
একই সঙ্গে কমিশনের নিযুক্ত করা অবজার্ভারের সঙ্গে বিজেপি যোগের কথা স্পষ্ট করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, বিজেপির লোককে অবজার্ভার করে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন। কুণালের কথায় “এই নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটারদের বাদ দিচ্ছেন। অন্য রাজ্যের ভোটারদের ভোটার লিস্টে কপি পেস্ট করে ঢোকানোর চেষ্টা করছেন। এখানকার সমস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিজেপির সুপারিশ করা লোকজন ঢুকিয়ে ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা করছেন। এর থেকে নির্বাচন কমিশনের লোকজন নিজেরাই লড়তে পারতেন।” তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, তৃণমূল কোর্টে ময়দানে লড়াই না করলে দেড় দু’কোটি নাম বাদ দিয়ে যেত। যাদের নাম রাখা গিয়েছে তা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল কেন নাম বাদ যাচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। সেই ব্য়াখ্যা আমরা পাচ্ছি না।”

–

–

–

–

–

–

–

