আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে বুথে বুথে কারচুপি রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করছে কমিশন। ইতিমধ্যেই কলকাতায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিশালাকার কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে রাজ্যের প্রতিটি বুথের মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কন্ট্রোল রুমে বসানো হয়েছে ৯০টি বিশালাকার অত্যাধুনিক টিভি স্ক্রিন। ভোট চলাকালীন এই স্ক্রিনগুলির সামনে সর্বক্ষণ মোতায়েন থাকবেন ২০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার। শুধু বুথের অন্দরে কী ঘটছে তা-ই নয়, বুথের বাইরের পরিস্থিতি, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং নাকা চেকিং পয়েন্টগুলোর ওপরেও ওই কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি নজরদারি চালানো হবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করতে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। মূলত স্পর্শকাতর এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে এই ক্যামেরাগুলি লাগানো হয়েছে। এ ছাড়াও কমিশনের বিশেষ টহলদারি গাড়ির ওপরেও থাকছে বিশেষ ক্যামেরা, যা এলাকা পরিদর্শনের সময় সরাসরি কন্ট্রোল রুমে ছবি পাঠাতে সক্ষম হবে।

কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এই নতুন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এবার নজরদারির ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুমে আসা লাইভ ফুটেজ বিশ্লেষণের জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভিড়ের মধ্যে থাকা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বা সন্দেহভাজন কাউকে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, বুথের আশেপাশে যদি কোথাও চার-পাঁচ জনের বেশি সন্দেহজনক জমায়েত দেখা যায়, তবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাইক্রো অবজার্ভারদের কাছে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা বা ‘অ্যালার্ট’ পৌঁছে যাবে। এর ফলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সহজ হবে। মূলত গণ্ডগোল পাকানোর আগেই তা রুখে দেওয়াই কমিশনের মূল লক্ষ্য। এবারের এই ডিজিটাল নজরদারি ভোট লুঠ বা ছাপ্পা ভোটের মতো ঘটনা রুখতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন – অষ্টম তফসিলিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি রাজবংশী ভাষা! মুখ্যসচিবের চিঠি দেখিয়ে কেন্দ্রকে তোপ অভিষেকের

_

_

_
_
_
