পানিহাটির নির্বাচনী রণক্ষেত্রে লড়াইয়ের সুরটা বৃহস্পতিবার বদলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগরপাড়ার উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তাঁর বক্তৃতায় আক্রমণ যেমন ছিল, তেমনই ছিল কৌশলী সংযম। একদিকে বিজেপি ও বামেদের ‘আঁতাঁত’ নিয়ে তোপ দাগলেও, অন্যপক্ষ থেকে আসা তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে এদিন মেজাজ হারালেন না তৃণমূল নেত্রী। বরং প্রতিপক্ষ শিবিরের কুরুচিকর ভাষার পাল্টা দিলেন সৌজন্যের পাঠ দিয়ে। রাজনীতির ময়দানে দাঁড়িয়েও যে শালীনতার ‘লক্ষ্মণরেখা’ টানা জরুরি, আগরপাড়ার সভা থেকে সেই বার্তাই দিতে চাইলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

পানিহাটি কেন্দ্রে এবার বিজেপির প্রার্থী আর জি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। রাজনীতিতে পা দিয়েই তিনি তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট চর্চা হয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গের রেশ টেনেই মমতা বলেন, ‘ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতির লোককে কিছু বলতেই পারে। তবে আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় ও তাঁর সাম্প্রতিক আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েও এদিন আক্রমণাত্মক না হয়ে বরং সংযত ও মার্জিত অবস্থান নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিনের সভা থেকে বিজেপি ও বামেদের গোপন বোঝাপড়া বা ‘সেটিং’ নিয়েও সরব হন মমতা। এই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। কলতান ও রত্না দেবনাথের নাম না করে মমতা অভিযোগ করেন, ‘বিজেপির এখন সবচেয়ে বড় বন্ধু সিপিএম। এত বছর ধরে সিপিএম মানুষের ওপর অত্যাচার করল, এত রক্ত ঝরল, অথচ তাদের বিরুদ্ধে বিজেপি একটাও সিবিআই মামলা করল না কেন?’ ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, বিজেপি বা সিপিএম— কাউকেই যেন একটিও আসন না দেওয়া হয়।

সন্তানদের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে মমতা বলেন, ‘যে যতই নাটক বা ছলনা করুক, মনে রাখবেন আপনাদের দরকার তৃণমূল সরকার।’ এদিনের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিরোধীদের কুরুচিকর আক্রমণের মুখে না পড়ে তৃণমূল কর্মীরা যেন উন্নয়নের নিরিখে এবং রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখেই লড়াই চালান।

আরও পড়ুন – আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বাংলাদেশে দুই প্রাক্তন পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ

_

_

_

_
_
_
