Thursday, April 9, 2026

‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ইতিহাস তুলে ধরে বিজেপিকে তুলোধোনা মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

”জানেন জয় বাংলা স্লোগানটা (Jai Bangla slogan) আমি কবে দিয়েছিলাম? ২০১৯ সালে যখন আপনাদের এখানে একটা গুন্ডা জিতেছিল ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে তারপর দাঙ্গা করে করে সারা এলাকা তছনছ করেছে”, নাম না করে এদিন পানিহাটি উষুমপুর বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন থেকে অর্জুন সিংকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেন, ”জেতার পর বাঙালিদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল, হিন্দু মুসলমান ভাগ করে দিয়েছিল। প্রায় এক মাস অশান্তি ছিল। খবর পেয়ে আমি ছুটে এসেছিলাম। দেখলাম রাতারাতি সব অফিস দখল করে নিয়েছে। সব বাড়িতে তালা দিয়ে দিয়েছে। নৈহাটির লোকেরা কাঁদছে। বড়মার পবিত্র জায়গা। কাঁদছে ব্যারাকপুর, বীজপুর, জগদ্দল, কাঁচরাপাড়া। আমি যাচ্ছি রাস্তা দিয়ে আর আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। আমি কিছু বলিনি। শুধু একটাই কথা আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছিল জয়বাংলা। সেটাই এখন আমাদের স্লোগান, যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।” আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ! ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে নারীসুরক্ষা প্রহসন, তোপ তৃণমূলের  

এরপই বিজেপিকে কাঠগোড়ায় তুলে তিনি বলেন, ”৯০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী? পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালে আপনারা বলেছিলেন, সারা দেশে মাত্র ২,০০০ কিছু অনুপ্রবেশকারী। আপনারা অনুপ্রবেশকারী? কিছু কিছু বহিরাগত ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হয়েছে। ওদের জামানত জমা করতে হবে। কেন বাংলায় কথা বললে অনুপ্রবেশকারী বলবেন?‌ বর্ডার আটকানোর দায়িত্ব কার?‌ সব রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। আর বলছে বাংলা নাকি অনুপ্রবেশকারীর কারখানা। আসলে বাংলাকে বহিরাগতদের কারখানা করার চেষ্টা করছো। এখানে বহিরাগতদের কোনও ঠাঁই নাই। কেউ যদি ভাবেন, নবান্নে বসে রয়েছি বলে, পানিহাটি, কামারহাটি, উত্তর দিনাজপুর খোঁজ রাখি না, ভুল করবেন। আমি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি। যাঁরা লোভ করে তাঁদের জন্য তৃণমূল নয়। যাঁরা জবরদস্তি করবে, তাঁদের জন্য তৃণমূল নয়। এটা বিজেপি নয়। আমি মনে করি কর্মীরা আমার সম্পদ। আজও নিজেকে কর্মী বলে পরিচয় দিই। আমার ধর্ম একটাই, মানবিকতা। আমার ধর্ম রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, বাংলার মাটি, বাংলার জল। আমি ভাগাভাগিতে বিশ্বাস করি না। কেউ কেউ বাঙালি-অবাঙালি করার চেষ্টা করছেন। কত লোককে দাঁড় করিয়েছেন কোনও কোনও আসনে। তাঁদের জমানত জব্দ করতে হবে। বাইরে থেকে লোক আসছে। মিছিল করার লোক নেই বিজেপির। এজেন্সিকে দিয়ে হোর্ডিং লাগাচ্ছে। গরিব মানুষকে ৫০০ টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে বলছে, মিছিলে আসবে। যখন বন্যা হয়, একটা টাকা দেয় না। কেউ মারা যায়, টাকা দেয় না। বাংলায় কথা বললে অত্যাচার করে। বিহারে অত্যাচার হয়। ইউপি, রাজস্থানে হয়। দিল্লির জমিদারেরা জবাব দেবেন? কেন বাংলায় কথা বললে বিদেশি, অনুপ্রবেশকারী বলবেন? সীমান্ত আটকানোর দায়িত্ব কার? আমোদী-প্রমোদীরা বলছেন, এটা নাকি অনুপ্রবেশের কারখানা। আমি বলব বহিরাগতদের কারখানা! বহিরাগতদের কোনও ঠাঁই নাই। ১০০ দিনের টাকা বন্ধ। গ্রামীণ আবাসনের টাকা বন্ধ। রাস্তা-সহ সব টাকা বন্ধ। দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাডা় কে করেছিল? স্কাইওয়াক করে করেছিল? আমি করেছিলাম। এই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে! কলকাতা থেকে তাড়াতাড়ি যাচ্ছেন বড়মার মন্দির থেকে সব জায়গায়।’’

মোদি শাহকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘ভোটবাবুরা আসছে। এত নাম কেটে লজ্জা নেই? ৯০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী? পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ২০২৫ সালে আপনারা বলেছিলেন, সারা দেশে মাত্র ২,০০০ কিছু অনুপ্রবেশকারী। আপনারা অনুপ্রবেশকারী? আজ যারা এখানে জন্মাল, তারা অনুপ্রবেশকারী? লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিক! এর পরের পরিকল্পনা হল এনআরসি। অসমে এনআরসি করে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে। ১৩ লক্ষ হিন্দুও ছিল। অনেক মতুয়া, তফসিলি, সংখ্যালঘুর নাম বাদ দিয়েছে। হিন্দুদের নাম কম বাদ দেয়নি। গাইঘাটা, বনগাঁ গিয়ে দেখে আসুন। ওহে মোটাভাই, সাথে ইডি, সিবিআই। দিল্লিতে থেকে এল গাই, সাথে ইডি, সিবিআই। হুমকি দিচ্ছেন সকলকে। ধমক দিচ্ছেন। ওঁর কাজ ফোন করে ধমকানো। কেউ কেউ কিছু পাওয়ার জন্য মাথা নত করে। আমাকে কব্জা করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, পারেনি। পারবেও না। আমাকে ধমকালে আমি চমকাই। আমি মানুষের ভরসা। আমার নিজের বলে কিছু নেই। চাই ও না। কমিশনকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাই। ওদের নাম উচ্চারণ করি না। ওরা বলেছিল, তৃণমূলকে আলটিমেটাম। কমিশনের হ্যান্ডল থেকে টুইট করা হয়। অনেক নমস্কার। তার কারণ, তৃণমূল একমাত্র লড়তে পারে বিজেপির বিরুদ্ধে। যে সিপিএম এত অত্যাচার করেছে, একটা সিবিআই, ইডি ওদের বিরুদ্ধে হয়েছে? এসআইআরে যখন তৃণমূল লড়াই করে, তখন তোমাদের দেখা নেই। তখন তৃণমূলের বিএলএ-রা করবে। ঝড়, জল, উৎসবে নেই, চড়াই-উতরাইয়ে নেই। শুধু ভোটের সময়ে রয়েছে। বসন্তের কোকিল! ভোট শেষ ওরাও নিঃশেষ!”

এরপরেই বিরোধীদের অনুরোধ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আপনার সন্তান, শিক্ষা, ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি, অধিকার যদি বাঁচাতে হয়, আপনাদের দরকার, তৃণমূল সরকার। যে যতই নাটক, ছলনা করুক, একটা কথা বলবেন, ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতিক লোককে বলতেই পারে। কিন্তু আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।’’

Related articles

তৃণমূল করতে হলে সবুজ বাঁচাতে হবে: পানিহাটিতে মাঠ বাঁচানোর বার্তা দলনেত্রীর

সবুজ ধ্বংস বরদাস্ত নয়। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ভোট প্রচারে গিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা...

বেঙ্গালুরু চিকিৎসক খুনের এক বছর পর বিস্ফোরক মোড়, স্বামীর গোপন চ্যাটে মিলল বড় সূত্র

হঠাৎই মৃত্যু হয়েছিল ব্যাঙ্গালুরুর (Bangalore) এক তরুণ চিকিৎসক কৃতিকা রেড্ডির (Young doctor Kritika Reddy)। পরিবারের দাবি ছিল স্বাভাবিক...

হিরণের মনোনয়ন পত্রে নাম প্রথম স্ত্রীর! ঋতিকাকে ‘রক্ষিতা’ কটাক্ষ অনিন্দিতার

বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না শ্যামপুরের (Shyampur BJP Candidate) পদ্মপ্রার্থী তথা অভিনেতা হিরণ চক্রবর্তীর (Hiran Chatterjee)। এবার অভিনেতার...

আইএসএল শেষেই ইংল্যান্ড সফরে ভারত, জেনে নিন ম্যাচের দিনক্ষণ

মে মাসে ইউনিটি কাপ (Unity Cup 2026 )খেলবে ভারত (Indian Men's Football Team)। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ জামাইকা। এই...