চলতি মরসুমে রাজ্যে আলুর রেকর্ড ফলন হয়েছে। কৃষি দফতর সূত্রে খবর, এ বছর উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টন ছুঁয়েছে। ফলনের এই জোয়ারের প্রভাবে হিমঘরগুলিতেও আলু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের হিমঘরগুলিতে প্রায় ৮০ লক্ষ টনের কাছাকাছি আলু মজুত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। গত বছর এই সময়ে সংরক্ষণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪ লক্ষ টন।

হিমঘরগুলিতে আলু রাখার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কৃষি দফতর জানিয়েছে, আগামী মে মাস থেকে এই সংরক্ষিত আলু বাজারে আসতে শুরু করবে। তবে তার আগে পর্যন্ত মাঠ থেকে ওঠা নতুন আলু দিয়েই বর্তমানে বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। শুধু রাজ্যেই নয়, বাংলার আলুর চাহিদা তৈরি হয়েছে ভিন রাজ্যেও। রেলপথে অসম ও ত্রিপুরায় এবং ট্রাকের মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যেও আলু পাঠানো শুরু হয়েছে। রফতানি হওয়া এই আলুর বড় অংশই হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় উৎপাদিত।
ফলন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কৃষকদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। চাষিরা যাতে ফসলের ন্যায্য দাম পান, তা নিশ্চিত করতে সরকার সরাসরি ৯৫০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু কেনা শুরু করেছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রকার হিমঘর থেকেই এই ক্রয় প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
রাজ্যের হিমঘরগুলির মোট ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮২ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে পর্যাপ্ত আলু মজুত হওয়ার পরেও এখনও কিছু জায়গা খালি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ছোট ও প্রান্তিক চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় হিমঘর মালিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, হিমঘরের অন্তত ৩০ শতাংশ জায়গা এই সমস্ত চাষিদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।
চাষিদের আর্থিক সহায়তার বিষয়েও বিশেষ জোর দিয়েছে প্রশাসন। আলু চাষিরা যাতে সহজে হিমঘরে ফসল মজুত করতে পারেন এবং পরে বাজার বুঝে বিক্রি করতে পারেন, তার জন্য ব্যাঙ্ক ঋণের প্রক্রিয়া আরও সরল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ব্যাঙ্ক এবং হিমঘর মালিকদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে এই ঋণদান প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ‘সুফল বাংলা’ স্টলগুলির মাধ্যমেও কৃষকদের লাভজনক দামে আলু বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে জানানো হয়েছে, চাষিদের ন্যায্য পাওনা বা আলু সংরক্ষণে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুন- ভোটের গোপনীয়তায় কোপ নয়, বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং নিয়ে বড় ঘোষণা কমিশনের
_
_

_

_

_

