শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন। রাজ্যের অনুদান পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মীদের ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ দফতর।

নবান্ন সূত্রে খবর, গত ১ এপ্রিলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বকেয়া ডিএ এবং ডিআর প্রদানের রূপরেখা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বেশ কিছু দফতর এখনও সেই এসওপি পাঠায়নি। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়াটি অকারণে থমকে রয়েছে বলে মনে করছে অর্থ দফতর। প্রশাসনিক কাজে এই ঢিলেমি কাটাতে এবার কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে উচ্চশিক্ষা, স্কুল শিক্ষা, নগর উন্নয়ন, পরিবহণ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলিকে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন কয়েক লক্ষ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পেনশনভোগী। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসওপি জমা পড়লেই বকেয়া মেটানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং ধাপে ধাপে তা প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। সম্প্রতি হাড়োয়ার এক জনসভা থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের পাওনা বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট। নবান্নের এই সাম্প্রতিক তৎপরতা সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত দফতর রিপোর্ট জমা দিলে এপ্রিল মাসের শেষভাগ থেকেই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একটি বড়সড় স্বস্তির খবর।

আরও পড়ুন- ‘ধুরন্ধর ২’-এর সাফল্যের পর মহাকাল মন্দিরে পুজো সারার

_

_

_

_

_
_
_
