প্রথম দফার ভোটের আগে ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ (ভিআইএস)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই এই স্লিপ (VIS) বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে সমস্ত ভোটারের হাতে এই স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে। বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি ভোটারদের হাতে এই স্লিপ তুলে দিচ্ছেন।

এই ভিআইএস-এ ভোটারের নাম, ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা, ভোটের তারিখ ও সময়— সমস্ত তথ্য দেওয়া থাকছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের একটি মানচিত্র এবং ভোটের দিন কী করবেন, কী করবেন না— সেই নির্দেশিকাও রয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে। এই স্লিপ ভোটকেন্দ্রে ভিড় কমাতে এবং দ্রুত ভোটগ্রহণে সাহায্য করবে। তবে এই স্লিপ কোনওভাবেই পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হবে না। ভোট দিতে গেলে বৈধ পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক।

বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে প্রতিবন্ধী ভোটারদের উপরে। দৃষ্টিহীন ভোটারদের জন্য ব্রেইল-সহ (braille) বিশেষ স্লিপ (VIS) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

দৃষ্টিহীন ভোটারদের ভোটদানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন বুথে ব্যবহৃত ইভিএমে প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের পাশে ব্রেইল চিহ্ন সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে ব্রেইল জানা দৃষ্টিহীন ভোটাররা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে যাঁরা ব্রেইল জানেন না, তাঁদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে বিজেপির কার্ড! স্মৃতিকে পাল্টা তোপ শশীর

১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, কোনও দৃষ্টিহীন ভোটার প্রয়োজনে একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে বুথে প্রবেশ করতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন জানাতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করা হয়, যেখানে ভোটার ও সহকারীর পরিচয় নথিভুক্ত থাকে। এর পর সেই ফর্মে সহকারী, প্রিসাইডিং অফিসার, উপস্থিত ভোটকর্মী এবং পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রিসাইডিং অফিসার তা নথিভুক্ত করেন। তারপর ওই দৃষ্টিহীন ভোটার তাঁর সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।

–

–
–
–

