ভাঙড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে একযোগে বিজেপি, সিপিএম ও আইএসএফকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি বলেন, সিপিআইএম এবং আইএসএফের জোট হয়েছে। এখানে আমার প্রশ্ন, শুভেন্দু অধিকারী যদি সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বলে থাকে, তবে নন্দীগ্রামে সিপিআইএমও প্রার্থী দিয়েছে, আইএসএফও প্রার্থী দিয়েছে কেন? কাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য? কার হাত শক্তিশালী করার জন্য? কার থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে? কেন সেখানে দুই দলই প্রার্থী দেবে? সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করো আর বিজেপিকে জিততে সুযোগ করে দাও— এ জন্যই বিজেপির বি টিম হিসেবে কাজ করছে আইএসএফ। পাশাপাশি অভিষেক আরও প্রশ্ন তোলেন, অমিত শাহকে যে পুলিশ পাহারা দেয়, সেই পুলিশ কেন নওশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবিরকে পাহারা দেয়? আরও পড়ুন: আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী খুনে চাঞ্চল্য, ধৃত ৩

আইএসএফের প্রতীক চিহ্ন হল খাম। সেই প্রতীক চিহ্ন নিয়েও এই সভা থেকে অভিষেক বলেন, আমাদের সিম্বল যেমন জোড়া ফুল, ওদের সিম্বল খাম। খামে করে কী যায়? খামে করে টাকা গিয়েছিল বলেই কি নন্দীগ্রামে প্রার্থী? প্রশ্ন অভিষেকের। এদিন সভা থেকে ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্যানিং পূর্ব আর পশ্চিমের সঙ্গে এবার ভাঙড়েও জোড়াফুল ফোটাতে হবে, যাতে উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত না হয়। ২০২৩-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনে আইএসএফ-এর একজন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তর নাম ছিল আরাবুল ইসলাম। যারা আদর্শ নিয়ে কথা বলে, যারা নিজেদের পিরজাদা হিসাবে দাবি করে, তারা সমস্ত আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে সেই আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী করল কী করে? আজকে এই হচ্ছে আইএসএফ-এর আসল চেহারা। যাদের হাতে আইএসএফ-এর কর্মী নিহত হয়েছিল, সেই হচ্ছে আইএসএফ-এর নেতা। এই হচ্ছে পিরজাদার আদর্শ। তাদের মূলমন্ত্র। অভিষেক আরও বলেন, ২০২১ সালে ভাঙড়ে প্রচার করতে আমি আসিনি। ২০২৩ বা ২০২৪-এ যখনই ভাঙড়ে আমি প্রচার করতে এসেছি, আপনারা খালি হাতে আমায় ফেরাননি। আমরা ভাঙার, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাজনীতি করি না। আমরা গড়ার রাজনীতি করি। যাঁরা ভাঙার রাজনীতি করছেন, তাঁদেরকে আমি বলব সতর্ক হোন। যারা মানুষের পাশে থাকে না, বিজেপির বি টিম, তাদের ভাঙড়ের পবিত্র মাটিতে কোনও জায়গা নেই।
–

–

–

–

–

–
–
–
