তৃণমূল সুপ্রিমোর সভার অনুমতি ছিল। তার পরেও সভার দিকে তাক করে উচ্চস্বরে মাইক বাজায় বিজেপি। এর প্রতিবাদে সামান্য সময় কথা বলেই মঞ্চ ছাড়লেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চূড়ান্ত ক্ষোভের সঙ্গে মমতা জানান, ”এভাবে মিটিং করা সম্ভব নয়। আমায় ক্ষমা করবেন। এর প্রতিবাদে আমায় ভোটটা দেবেন।” একই সঙ্গে জানান, রবিবার তিনি এসে ওই জায়গায় পদযাত্রা করবেন।

হাতে মোটে আর কয়েকদিন। তার পরেই দ্বিতীয়দফা ভোট। তার আগে দক্ষিণবঙ্গ চষে ফেলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার, বিভিন্ন জায়গায় সভা- পদযাত্রা করার পরে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে সভা করার কথা ছিল তাঁর। সেই মতো সন্ধেয় চক্রবেড়িয়ায় জনসভা করতে যান তিনি। সভামঞ্চের কিছুটা দূরেই অজন্তা মোড়ে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে তারস্বরে মাইক বাজে। ফলে তৃণমূলের সভার সমস্যা হয়। এর পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেন, “আমি লিগ্যাল অ্যাকশন নেব। আমাকে অপমান করা হচ্ছে। এভাবে হয় না।“ কারও সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেতেও দেখা যায় তাঁকে। এমনকী, সাউন্ডবক্সের আওয়াজও মোবাইলে শোনান তৃণমূল সভানেত্রী।
এর পরে মাইক হাতে নিয়ে মমতা বলেন, “কেন করবে এটা? ইলেকশনের কতগুলো রুলস আছে। তা হলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে তোমরা পাল্টা লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ তুলতে আসলে, মেয়েদের ধরে এফআইআর করবে। এটা পার্শিয়ালিটি।”

তৃণমূল সুপ্রিমো হলেন, “মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব? পারমিশন নিয়ে। এ বার আপনারা বলুন। সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। তার পরে আপনারা দেখুন, কী অ্যাটিটিউড। ওরা পশ্চিমবঙ্গকে দখল করতে জোর করে যা করছে, তা ঠিক নয়। ওরা যদি এটা আমার কেন্দ্রে করতে পারে… আমি এক মাস এখানে ছিল না। আমি রাজ্যে ঘুরছিলাম ২০০ আসনের জন্য। অভিষেকও প্রায় ১০০ আসনের জন্য প্রচার করছে। আপনারা যদি এমন আচরণ করেন, তা হলে আমি দুঃখিত। আমাকে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। আমি সেটা করব। তা হলে বুঝতে পারছেন, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে। এই দেখুন, সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি।”

ক্ষুব্ধ মমতা (Mamata Banerjee) জানান, ”আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কাল এখানে র্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক। এটা খুব হিউমিলেশন। আমি আপনাদের নমষ্কার জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। যদি পারেন, ভোটটা আমায় দেবেন। আমার সিম্বল নম্বর ২। কিন্তু এর প্রতিবাদে আপনাদের ভোটটা দিতে হবে। আমাকে মিটিং পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমি পারমিশন নিয়েছি। তা-ও।” এরপরই সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

–

–

–
–
–
