বিজেপির উচ্ছেদ অভিযান! ধ্বংস হকারদের জীবন-জীবিকা! রাস্তায় সর্বহারারা

কলকাতায় মঙ্গলাহাট বা হাতিবাগান, জেলা স্তরে কোচবিহার বা কাকদ্বীপ— ছবিটা মোটের ওপর একই। নয়া বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ফুটপাথ দখল-মুক্তির অভিযান। কোথাও ফুটপাথ ফাঁকা করার নাম করে, কোথাও আবার রেল স্টেশন ও তার সংলগ্ন এলাকা থেকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার দোকান ও গুমটি। পুনর্বাসন না দিয়ে রাতারাতি এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে এখন রাজ্য জুড়ে হকারদের মধ্যে হাহাকার ও কান্নার রোল। কাজ হারিয়ে পথে বসেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এখন খাদের কিনারায়।
Sponsored

অথচ এই রাজ্যের মানুষ এক অন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত ছিলেন। ‘হাতে কাজ পেটে ভাত’— এই নীতি নিয়েই বিগত দেড় দশক ধরে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রেল-চত্বরে যখনই হকার উচ্ছেদের চোখরাঙানি এসেছে, তখনই সরব হয়েছেন নেত্রী। হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবাদের ডাক, রুখে দাঁড়ানোর ভরসা। সেই আশ্বাসে ভর করেই গত ১৫ বছরে কারও রুজি-রোজগার বন্ধ হয়নি। এই হকারি করেই দশকের পর দশক ধরে বহু মানুষ পরিবার প্রতিপালন করেছেন, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন। দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে তাঁদের কখনও এমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে এই হকার ও শ্রমজীবী মানুষের একটা বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে এখন অনেক সর্বহারা হকারই বলছেন, আমরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলাম পরিবর্তনের আশায়। আর ওরা এসেই আমাদের পেটে লাথি মারল! এর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনেক ভালো ছিল। আর যা-ই হোক, আমাদের কোনওদিন ভাতে মারেনি।
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এই অসহায়তা ও প্রশ্ন নিয়ে অবশ্য পদ্ম শিবিরের নেতাদের একাংশের উদাসীনতা স্পষ্ট। অনেক নেতা-মন্ত্রীই দায় ঝেড়ে ফেলে বলছেন, ওদের দায়িত্ব সরকার কেন নেবে! তাঁদের মতে, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত করা দরকার। কিন্তু শহরের এই হকাররা আগামী দিনে কী করে বাঁচবেন, কীভাবে তাঁদের সংসার চলবে, তার কোনও সদুত্তর মিলছে না প্রশাসনের তরফে। শুধু রেল-চত্বরই নয়, বিজেপির কড়া নজর এখন মঙ্গলাহাট, খান্নার হরি শা হাট, শ্যামবাজার, হাতিবাগান কিংবা গড়িয়াহাটের মতো ঐতিহ্যবাহী হকার চত্বরগুলির দিকেও। পুনর্বাসনের কোনও রূপরেখা ছাড়াই আপাতত রাজ্য জুড়ে চলছে বুলডোজার-রাজনীতি, যার নিচে পিষে মরছে গরিব মানুষের দুবেলা দুমুঠো ভাতের অধিকার।
আরও পড়ুন - পাহাড়ে ‘স্থায়ী সমাধান’ খুঁজতে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি রাজু বিস্তারা
_
_
_
_
_
_
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

গণতন্ত্রের পীঠস্থানে শারীরিক বলপ্রয়োগ! বিধানসভায় কুণালকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার তীব্র নিন্দা অভিষেকের
Just now

আমার নাম কেটেছেন কেন? আখরুজ্জামানকে কুণালের প্রশ্নে ধুন্ধুমার বিধানসভা! টেনে-হিঁচড়ে বের করা হল বেলেঘাটার বিধায়ককে
2h ago

বিধানসভায় বক্তার তালিকা থেকে নাম কাটা! কণ্ঠরোধের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কুণালের
2h ago

ট্রলার ডুবিতে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য-চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, সিকিমে টানেল বিপর্যয়েও পাশে রাজ্য
3h ago

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
6h ago

স্ত্রী-পুত্রের পর এবার মদনকে তলব ইডির
6h ago
More from রাজ্য
View All →
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিসকে তলব ইডির
7h ago

'তোমাকে ছাড়া চিনি না’: নেত্রীকে কৃতজ্ঞতা! তর্পণের প্রকৃত মঞ্চেই অবস্থান শহিদ পরিবারের
10h ago

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
17h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
19h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
19h ago
