Thursday, June 25, 2026

বিজেপির উচ্ছেদ অভিযান! ধ্বংস হকারদের জীবন-জীবিকা! রাস্তায় সর্বহারারা 

Date:

Share post:

কলকাতায় মঙ্গলাহাট বা হাতিবাগান, জেলা স্তরে কোচবিহার বা কাকদ্বীপ— ছবিটা মোটের ওপর একই। নয়া বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ফুটপাথ দখল-মুক্তির অভিযান। কোথাও ফুটপাথ ফাঁকা করার নাম করে, কোথাও আবার রেল স্টেশন ও তার সংলগ্ন এলাকা থেকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার দোকান ও গুমটি। পুনর্বাসন না দিয়ে রাতারাতি এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে এখন রাজ্য জুড়ে হকারদের মধ্যে হাহাকার ও কান্নার রোল। কাজ হারিয়ে পথে বসেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এখন খাদের কিনারায়।

অথচ এই রাজ্যের মানুষ এক অন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত ছিলেন। ‘হাতে কাজ পেটে ভাত’— এই নীতি নিয়েই বিগত দেড় দশক ধরে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রেল-চত্বরে যখনই হকার উচ্ছেদের চোখরাঙানি এসেছে, তখনই সরব হয়েছেন নেত্রী। হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবাদের ডাক, রুখে দাঁড়ানোর ভরসা। সেই আশ্বাসে ভর করেই গত ১৫ বছরে কারও রুজি-রোজগার বন্ধ হয়নি। এই হকারি করেই দশকের পর দশক ধরে বহু মানুষ পরিবার প্রতিপালন করেছেন, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন। দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে তাঁদের কখনও এমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়নি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে এই হকার ও শ্রমজীবী মানুষের একটা বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে এখন অনেক সর্বহারা হকারই বলছেন, আমরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলাম পরিবর্তনের আশায়। আর ওরা এসেই আমাদের পেটে লাথি মারল! এর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনেক ভালো ছিল। আর যা-ই হোক, আমাদের কোনওদিন ভাতে মারেনি।

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এই অসহায়তা ও প্রশ্ন নিয়ে অবশ্য পদ্ম শিবিরের নেতাদের একাংশের উদাসীনতা স্পষ্ট। অনেক নেতা-মন্ত্রীই দায় ঝেড়ে ফেলে বলছেন, ওদের দায়িত্ব সরকার কেন নেবে! তাঁদের মতে, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত করা দরকার। কিন্তু শহরের এই হকাররা আগামী দিনে কী করে বাঁচবেন, কীভাবে তাঁদের সংসার চলবে, তার কোনও সদুত্তর মিলছে না প্রশাসনের তরফে। শুধু রেল-চত্বরই নয়, বিজেপির কড়া নজর এখন মঙ্গলাহাট, খান্নার হরি শা হাট, শ্যামবাজার, হাতিবাগান কিংবা গড়িয়াহাটের মতো ঐতিহ্যবাহী হকার চত্বরগুলির দিকেও। পুনর্বাসনের কোনও রূপরেখা ছাড়াই আপাতত রাজ্য জুড়ে চলছে বুলডোজার-রাজনীতি, যার নিচে পিষে মরছে গরিব মানুষের দুবেলা দুমুঠো ভাতের অধিকার।

আরও পড়ুন – পাহাড়ে ‘স্থায়ী সমাধান’ খুঁজতে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি রাজু বিস্তারা 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

কালীকে খুঁজলে সব বেরিয়ে যাবে! বিধানসভায় কার নাম মুখ্যমন্ত্রীর মুখে

কালীকে খুঁজলে সব বেরিয়ে যাবে- তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতিতে দিতে গিয়ে কার নাম বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী...

ভিশন পার্ট টু, মন্ত্রী দিন্দাকে বড় দায়িত্ব সিএবির

২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন, চলতি বছর ভোটে জিতে মন্ত্রী হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হয়েও ক্রিকেট থেকে দূরে...

দুর্নীতি ঠেকাতে জোড়া বিল আনছে রাজ্য: উদ্দেশ্য নিয়ে তুঙ্গে তরজা

ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলায় বুলডোজার নীতি কার্যকর করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার। আদালতের আদেশে সেই নিয়মে...

আমরা বেইমান নই: “যাঁরা দিদির সঙ্গে থাকছেন” তাঁদের নিয়ে বিশেষ কর্মিসভার ডাক কুণালের

গত কয়েকদিনের মধ্যে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূলের (TMC) উত্তর কলকাতা জেলার সভাপতি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) একাধিকবার বলেছেন,...