"গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। বিধানসভা হওয়া উচিত যুক্তি, বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পীঠস্থান—শারীরিক বলপ্রয়োগ বা ভয় দেখানোর নয়"- বিধানসভায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) টেনে-হিঁচড়ে বের করার তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
কুণাল ঘোষের নাম কেটে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে আগেই অভিযোগ করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। বুধবার, বিরতির পরে আবার অধিবেশন শুরু হলে আখরুজ্জামান বলতে উঠতেই আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁর মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন কুণাল। কুণাল-আখরুজ্জামানের ‘সংঘাতে’ উত্তপ্ত বিধানসভা অধিবেশন। মার্শাল ডেকে টেনেহিচড়ে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণালকে বাইরে বার করে দেওয়া হয়। কুণালকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেন স্পিকার।
এর তীব্র প্রতিবাদ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। নিজের স্যোশাল মিডিয়ায় অভিষেক লেখেন, "বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে বিধানসভার ভিতরে যে আচরণ করা হয়েছে এবং যেভাবে তাঁকে বলপ্রয়োগ করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই।"
গণতন্ত্রের পীঠস্থানে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিষেক আরও লেখেন, "গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। বিধানসভা হওয়া উচিত যুক্তি, বিতর্ক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পীঠস্থান—শারীরিক বলপ্রয়োগ বা ভয় দেখানোর নয়। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদার উপর আঘাত নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেখানে ভিন্নমতকে দমন করাই যেন শাসকদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।গণতন্ত্রে শক্তির নয়, যুক্তি ও সহনশীলতারই জয় হওয়া উচিত।"
অভিষেকের মতে, "তৃণমূল কংগ্রেসকে এভাবে ভয় দেখিয়ে বা বলপ্রয়োগ করে কখনও স্তব্ধ করা যাবে না। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের প্রতিটি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে, আরও ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাব। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা আমাদের আদর্শ নয়, আর হবেও না।"
















