বিধানসভায় বক্তার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু সেই নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে বুধবার বিধানসভা থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি অভিযোগ করেন, বেছে বেছে বক্তার তালিকা থেকে তাঁর নাম বেধা দেওয়া হচ্ছে। ঋতব্রত-শিবিরের মাধ্যমে এই চক্রান্ত করছে বিজেপি সরকার-গর্জে ওঠে কুণাল। এর আগে এদিন অধিবেশনে বলতে উঠে তাঁদের শিবিরের বিধায়কদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তাঁদের তরফে পাঠানো বক্তাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বিষয়টিকে ”নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান”- এড়িয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন বেলেঘাটার বিধায়ক।
এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে উঠেও বসে পড়েন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এর পর বলতে উঠে আলিফা আহমেদ বলেন, ”অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তা নিয়ে বলার আগে আমি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলতে চাই। আমাদের মানে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বক্তা হিসেবে যাঁদের নাম পাঠানো হচ্ছে, সেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এতে অসুবিধা হচ্ছে। বিধানসভার সদস্য হিসেবে সকলের নির্দিষ্ট সময় আছে বক্তব্য রাখার জন্য। কে, কখন বলবেন, তা যদি আগে থেকে জানা যায়, তাহলে সুবিধা হয়। এটা নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।”
এর পরেই বিধানসভা থেকেই সাংবাদিক বৈঠক করে কুণাল অভিযোগ করেন, তাঁর নাম বক্তা হিসেবে শোভনদেব দিলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। বেলেঘাটার বিধায়ককের অভিযোগ, তাঁর নাম দেখেই বাদ দেওয়া হচ্ছে। একে কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বলে তোপ দাগেন কুণাল।
তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের অঙ্গুলিহেলনে চলার মতো একটি বিরোধীদল নিজেরা তৈরি করেছে। আর তাঁদের দিয়েই প্রকৃত তৃণমূল বিধায়কদের কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র চলছে। এর পরেই কুণাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁর নাম কাটা ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলতে উঠলে কী করে বক্তৃতা করতে পারেন দেখা যাবে।
তবে, বিরোধীদলে এই টানাপোড়েনকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ”আপনারা নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান। তা মেটানোর জন্য তো মুখ্যমন্ত্রী বা হাউস বসে নেই।”
















