স্কুলে শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে বহু পুরোনো ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ পুরোপুরি বন্ধ করে এবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট নীতি আনার বার্তা দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে বিধানসভায় জানালেন রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ।
মঙ্গলবার বিধানসভায় বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের বাজেটের উপর আলোচনার জবাবি ভাষণে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগের জামানায় শিক্ষক বদলির বিষয়টি ছিল মূলত ব্যক্তি ও প্রভাবনির্ভর। যাঁরা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতাশালীদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন অথবা বিশেষ সুবিধা দিতে পারতেন, তাঁরাই সুবিধাজনক জায়গায় বদলির সুযোগ পেতেন। সেই পুরোনো ব্যবস্থায় ইতি টানা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নতুন বদলি নীতি অনুযায়ী কোনও বিদ্যালয়ে যদি অনুমোদিত শিক্ষক পদের ৭০ শতাংশের কম কর্মী থাকেন, তবে সেখান থেকে আর কাউকে নতুন করে বদলির অনুমতি দেওয়া হবে না। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটাই কাটানো সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁর।
শিক্ষকদের বদলি নীতির পাশাপাশি রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের বিষয়টিতেও বিধানসভায় আশার আলো দেখান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ৬৬৫ জন আংশিক সময়ের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা, ২,২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু, সমগ্র শিক্ষা মিশনের বিশেষ শিক্ষাবিদ, এসএসকে ও এমএসকের সহায়ক-সহায়িকা এবং সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকা-সহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের সাম্মানিক বা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব ইতিমধ্যেই অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। সরকারের আশা, প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবেই বিবেচিত হবে।
সরকারি বিদ্যালয়গুলির শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এবং শিক্ষক বণ্টনে ভারসাম্য আনতেই এই নীতিগত পদক্ষেপ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সিদ্ধান্তের সুফল হয়তো এখনই পুরোপুরি সামনে আসবে না, তবে আগামী এক দশকে রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষায় এই নীতিগত পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হবে।
















