বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিতে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের (Civic Volunteer) চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার বিধানসভায় (Assembly) এই ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি সিকিমে (Sikkim) টানেলে ধসে মৃত বাংলার শ্রমিকদের পরিবারকেও আর্থিক সাহায্য এবং মৃতদেহ ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

কয়েকদি আগেই বঙ্গোপসাগরে উল্টে যায় ‘জয় মা কালী’ ট্রলার। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৬ দিন পরে জয় মা কালী ট্রলারের খোঁজ পাওয়া যায়। মৎস্যজীবীদের কয়েকজন ওডিশার বালাসোরের। আর বাংলার যাঁরা, অধিকাংশই হাওড়া, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার। আমাদের রাজ্যের যে মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে বলব, অর্থ দিয়ে কখনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তবে মানবিক দায়িত্ব সরকারের থেকে যায়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং প্রত্যেক পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে স্থানীয় থানায় কাজ দেওয়া হবে।”

পাশাপাশি সিকিমের টানেল ধসে বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”জলপাইগুড়ির বেশ কিছু শ্রমিক সিকিমে আটকে পড়েন। আগে রাজ্য সরকারের প্লেন একজনই ব্যবহার করতেন, সম্রাজ্ঞী। সরকারের আর কারও সেখানে ওঠার অধিকার ছিল না। কিন্তু সিকিমের খবর পেয়ে আমরা দ্রুততার সঙ্গে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি রাজেশ সিনহা, আমাদের মন্ত্রী বিশাল লামা এবং নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরাকে সিকিমে পাঠিয়েছি। সেখানে মোট ১০টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে ৫টি জলপাইগুড়ির বাসিন্দার। বাকিদের ক্ষেত্রেও NDRF, আর্মি, সিকিম সরকার চেষ্টা করছেন। আমাদের এখানকার যাঁরা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ সহ যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার সব ব্যবস্থা নেবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”আগামী রবিবার রামনগর-১ ব্লকের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তাঁদের হাতে চেক হস্তান্তর করা হবে।”