Sunday, April 26, 2026

বিজেপি এলেই আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করবে: প্রচারে নিজের দিল্লির অভিজ্ঞতা জানালেন কেজরিওয়াল

Date:

Share post:

স্বৈরাচারী বিজেপির প্রবল নির্মমতা যে রাজনৈতিক নেতারা দেখেছেন, তার মধ্যে অন্যতম দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। বাংলার নির্বাচনে সেই কেজরিওয়াল বিজেপির চরম শোষণ নীতির কথা তুলে ধরে দাবি করলেন, যে লড়াই বাংলার মানুষ লড়ছেন আদতে সেটা গোটা দেশের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। গোটা দেশ বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করে রয়েছে। সেই সঙ্গে দিল্লিতে (Delhi) আপের সুশাসনকে মুছে ফেলে যে অপশাসন প্রতিষ্ঠা করছে বিজেপির সরকার, তারও উদাহরণ পেশ করলেন আপ (AAP) নেতা। বাংলায় প্রথমবার ভোট প্রচারে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে রবিবার সভা করেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল

দেশের শাসন ক্ষমতা ধরে রাখতে যেভাবে সব সম্মান বিসর্জন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, তা তুলে ধরে কেজরিওয়ালের দাবি, নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহ (Amit Shah) গোটা দেশে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন। গোটা দেশ ওদের এখন ঘৃণা করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গেলে নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) নিয়ে এত মিম হচ্ছে, লোকে গালাগালি দিচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে গালাগালি দিচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতা নেই একটা শব্দ করার। এত দুর্বল, ভিতু প্রধানমন্ত্রী ৭৫ বছরেরে ইতিহাসে কখনও দেখা যায়নি।

গোটা দেশের পাশাপাশি বাংলার ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা হারানো মোদি-শাহ বাংলার ভোট জিততে যে ষড়যন্ত্র করেছে, তা স্পষ্ট করে দেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জনতা ওদের বিরুদ্ধে। বাংলার জনতা ওদের বিরুদ্ধে। তাহলে কীভাবে নির্বাচনে জিতবেন? তখন ওরা বসে ষড়যন্ত্র করল – ভোটার তালিকা বদলে দাও। ২৭ লক্ষ ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দাও। ২৭ লক্ষ কি কম কিছু? এই পৃথিবীর এমন বহু দেশ রয়েছে যার সমগ্র জনসংখ্যা ২৭ লক্ষের থেকে কম। যদি আপনাদের ভোট না থাকে, তার অর্থ আপনারা দেশের নাগরিক (citizenship) রইলেন না। দেশে থাকার অধিকার হারালেন। কাল এরা আপনাদের সঙ্গে কি করবে ঈশ্বর জানে।

দিল্লি থেকেই বাংলার এসআইআরের সব পরিস্থিতির উপর নজর রাখা কেজরির কথায়, কীভাবে ভোট কেটেছে? দিল্লি থেকে আমি সব কাহিনী পড়েছি। বাবা-মায়ের ভোট আছে। ছেলের ভোট কেটে দিয়েছে। বাবা-মা ভারতীয়, ছেলে ভারতীয় নয়, এটা কেমন যুক্তি? এবার নির্বাচনের পরে এই ২৭ লক্ষের সঙ্গে কি করবে? এদের কী দেশ থেকে তাড়াবেন? এদের কোথায় নিয়ে যাবেন? আর নকল ভোটার ঢুকিয়ে দিয়েছে। চেন্নাই, গোয়া, কেরালম প্রভৃতি জায়গা থেকে ট্রেন ভরে ভরে লোক আসছে বলছে। লক্ষ লক্ষ বাইরের লোককে নিয়ে এসে বাঙালির নামে ভোট দিচ্ছে। এভাবে মোদিজি ভোটে লড়বেন? কাপুরুষ, ভিতু নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

যেভাবে নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের মধ্যে দিয়ে গোটা দেশের গণতন্ত্রকে হত্যার খেলা চালাচ্ছে বিজেপি, তাকে রক্ষা করতে পারে বাংলা, দাবি কেজরিওয়ালের। তাই তিনি বলেন, ভোটার তালিকা শেষ হয়ে গেলে গণতন্ত্র বাঁচবে না। ভারতে অরাজকতা চলে আসবে। আপনারা সেই লড়াইটা লড়ছেন। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই লড়ছেন। তাই আমি প্রথমবার বাংলার নির্বাচনে (assembly election) প্রথমবার এসেছি। আমার মনে হয়েছে দেশকে যে ভালোবাসে তাঁরই বাংলার এই লড়াইতে সামিল হওয়া উচিত। কারণ কাল যখন ইতিহাস লেখা হবে, স্বাধীনতা বাঁচানোর লড়াই যখন বাংলা লড়ছিল, সেই অধ্যায়ে লেখা হবে সেখানে কেজরিওয়ালও এসেছিলেন।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে কেজরিওয়াল দাবি করেন, যাঁরা ভারতকে ভালোবাসেন, এবার দল ভুলে যান। যাঁরা বিজেপি, কংগ্রেস, বামপন্থী, যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন তাঁরা মমতাদিদিকে (Mamata Banerjee) ভোট দিয়ে দিন। দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশ বাঁচলে দল বাঁচবে। দিদি আপনাদের জন্য লড়াই করছেন। দিদির কি স্বার্থ? একজন ছোটখাটো মহিলা। যখন দেখি তিনি কিলোমিটারের পরে কিলোমিটার হেঁটে চলেছেন, শ্রদ্ধায় আমার মাথা নত হয়ে যায়। সবাই তাঁর পিছনে পড়ে রয়েছে। ইডি, সিবিআই, কেন্দ্রীয় বাহিনী, আর না জানি বিজেপির কতজন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীরা। সবাই তাঁর পিছনে পড়ে থাকলেও তিনি জিতবেন।

যেভাবে দিল্লি দখলের জন্য তৎকালীন আপ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল দিল্লির বিজেপি সরকার, সেই তিক্ত স্মৃতি তুলে ধরে আপ নেতা জানান, এক বছর আগে বিজেপি দিল্লিতে হামলা চালানো। নকল কেস দিয়ে আমায় জেলে ঢুকিয়ে দিলো। এবার আদালতের রায় এলো, দেখা গেল সব অভিযোগ মিথ্যে। আদালত জানালো কেজরিওয়াল সৎ। এমন মিথ্যে মামলা আমার উপর লাগালো আর দিল্লি দখল করল।

আরও পড়ুন : নারী-সংখ্যালঘু-বাঙালি বিরোধী বিজেপি: আরামবাগের সভা থেকে গর্জে উঠল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ

আদতে দিল্লি দখলের পরে বিজেপির শাসনে দিল্লির কি অবস্থা তা তুলে ধরে বাংলার মানুষকে সতর্ক করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি তুলে ধরেন, দিল্লিতে আমরা যা ভালো কাজ করেছিলেন, সব একটু একটু করে বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ভালো স্কুল করেছিলাম, বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা মহল্লা ক্লিনিক করেছিলাম, তা বন্ধ। আমরা মহিলাদের বাসে ভাড়া ফ্রি করে দিয়েছিলাম, সেটা বন্ধ করেছে। আমরা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতাম, এবার সেটা বন্ধ করবে। যত কাজ দিদি এখানে করেছেন, যদি ভুল করেও এদের আপনারা ভোট দেন, তবে সব বন্ধ করে দেবে। আপনাদের বাড়ির মহিলারা যে মাসে দেড় হাজার টাকা পান, কমলের চিহ্নে ভোট দিলে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে, আমি বলে যাচ্ছি। সবার আগে এই কাজটাই করবে।

বাংলায় প্রথম নির্বাচনী (assembly election) প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আবেদন জানান আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন, কুণাল ঘোষ দাদার ১ নম্বর বোতাম। ভোট ভাগ হতে দেবেন না। কংগ্রেস, বামেদের ভোট দেবেন না। যেটা ইনি বললেন। ওরা জিততে পারবে না। ওরা ভোট কাটবে।

Related articles

কম্বলে মুড়ে অপরাধীদের আনছে কেন্দ্রীয় বাহিনী: EVM লুটের নতুন ষড়যন্ত্র ফাঁস মমতার

নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে নতুন নতুন পন্থায় বাংলার ভোটে কারচুপি করার পথ নিয়েছে বিজেপি। হাতিয়ার নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা...

কপালে ‘টেম্পল’ডিভাইস! স্বামীর সৌজন্যে প্রযুক্তিতে জোর সিন্ধুর

সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে নেই, বড় টুর্নামেন্ট জিততে পারছেন না। নিজেকে ফিট রাখতে প্রযুক্তি সহায়তা নিলেন পিভি সিন্ধু (PV...

কিংবদন্তি চিত্রগ্রাহক রঘু রাইয়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক (Documentary Photographer) রঘু রাইয়ের প্রয়াণে (Raghu Rai) গভীর শোক প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata...

দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের ‘কো-অর্ডিনেশন’ বৈঠক

প্রথম দফার ভোট পর্ব শেষ হতেই (West Bengal 2nd Phase Voting) দ্বিতীয় দফাকে ঘিরে প্রস্তুতিতে গতি আনল নির্বাচন...