২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ডও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সকলের মুখেই এখন ‘রেকর্ড’ ভোটদানের চর্চা। এই বিপুল ভোটদানের প্রসঙ্গে তৃণমূলের দাবি, এই বিপুল জনসমর্থন আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমুখী রাজনীতির জয় এবং বিজেপির বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মূলত দুটি কারণে মানুষ এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জোড়াফুলে ভোট দিচ্ছেন। প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে আসা উন্নয়নের জোয়ারের পক্ষে মানুষ রায় দিচ্ছেন এবং দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বঙ্গ-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এটি এক বলিষ্ঠ নীরব প্রতিবাদ।

তবে এই আকাশছোঁয়া ভোট শতাংশের নেপথ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক ও প্রশাসনিক কারণও উঠে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০০২ সালের পর এই প্রথম রাজ্যে সম্পন্ন হওয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন এই রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর এই শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে রাজ্য জুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষ ‘ভুয়া’, ‘মৃত’ বা ‘অনুপস্থিত’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট ভোটারের সংখ্যা বা ‘ডিনোমিনেটর’ অনেকটা কমে যাওয়ায়, যাঁরা প্রকৃত ভোটার এবং ভোট দিতে এসেছেন, তাঁদের সংখ্যার নিরিখে শতাংশের হার গাণিতিকভাবেই অনেক বেশি দেখাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮৯.৯৯ শতাংশ এবং দুই দফা মিলিয়ে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.৬৮ শতাংশে। রাজ্যের মোট ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৩ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৬ হাজার মানুষ ইভিএম-এ তাঁদের রায় বন্দি করেছেন।

আরও পড়ুন- ‘‘সরল পাটিগণিত, বিজেপি হারছে’’! কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ তৃণমূলের

_

_

_

_
_
_
_
