শান্তিপূর্ণভাবে ভোট মিটলেও তার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বেহালা। বেহালার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লিতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছেন প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস। হামলার দায় বিজেপির ওপর চাপিয়ে কড়া তোপ দেগেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মরিয়া হয়ে হিংসার পথ বেছে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, হার নিশ্চিত বুঝেই বিজেপি এসব করছে। কোথাও সরাসরি আক্রমণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও প্ররোচনা দিয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চলছে। কুণাল বাবুর অভিযোগ, এই সব এলাকায় সিপিএমের মদতে তৃণমূল বিরোধীরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের আরও দাবি, এগজিট পোলের গালগল্পে যে কাজের কাজ কিছু হবে না এবং তৃণমূল যে বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় ফিরছে, তা বিরোধীরা বুঝে গিয়েছে। সেই হতাশা থেকেই তৃণমূল কর্মীদের রক্ত ঝরানো হচ্ছে। পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে শাসক দল। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বেহালা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বসে ছিলেন তৃণমূলের কয়েক জন কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী ইট, বাঁশ এবং লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে গেলে অঞ্জন বাবুকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েক জন কর্মীর হাত ভেঙেছে এবং মাথা ফেটেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, সারাদিন মানুষ শান্তিতে উৎসবের মেজাজে ভোট দিল, আর হার নিশ্চিত জেনেই বিজেপি রাতের অন্ধকারে গুন্ডামি শুরু করল।
আরও পড়ুন- রাতেই স্ট্রং রুম পাহারায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: সাখয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে বাড়ল নিরাপত্তা
_
_
_

_

_

_


